প্রকাশিত: ০৮ মে, ২০২৫ ২১:২১
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ধরণের দুর্যোগ-দুর্বিপাক ছাড়াই চলতি বোরো মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন তাহিরপুরের কৃষকরা। এবার ভরা বর্ষার আগে গবাদি পশুর খাদ্য জোগানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বৈরিতা এবং ভূমি দখলের জেরে তাহিরপুর উপজেলাসহ জেলার অনেক এলাকাতে কমে গেছে গোচারণভূমি। কান্দা নষ্ট হওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্যের প্রাকৃতিক উৎসও নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় প্রতি মৌসুমে বোরো আবাদ ও ধান সংগ্রহের ব্যস্ততা শেষে গো—খাদ্য মওজুদ নিশ্চিত করতে খড়ের জোগান দেন স্থানীয় কৃষকরা। এর ওপরে নির্ভর করে বছরজুড়ে তাদের গবাদি পশু পালনের সাবলম্বিতা। ভরা বর্ষার আগে তাই পাকা ধান গাছ থেকে পাওয়া খড়ের মওজুদ নিশ্চিত করেন কৃষক।
বর্ষাকালে তাহিরপুর উপজেলাতে পানিতে ভরপুর থাকে। চারদিকে পানি থাকায় এ অঞ্চলের কোথাও গবাদি পশু চরানোর জন্য ভূমি পাওয়া যায় না। এমন সময় গবাদি পশুর যেন খাদ্য সংকট না হয় সেজন্য খড়ের জোগান দিতে হয় প্রান্তিক কৃষককে যার কারণে বাড়িতে রেখে পশু পালন সহজ হয় তাদের জন্য।
গো—খাদ্য হিসেবে পরিচিত কাটা ধান গাছের শুকনো খড় রোদে শুকিয়ে হাওর থেকে বাড়িতে এনে স্তূপ দিয়ে রাখা হয়। এ মৌসুমেও গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় খড় সংগ্রহে ব্যস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষক ও গেরস্ত।
হাওরে খড় সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জান যায়, অনেক বছর পর হাওরপারে এমন বৈশাখ পেয়েছেন তারা। জমির ধান দুর্যোগে নষ্ট হয়নি। মাঝে পোকার আক্রমণ হলেও সময় মতো বৃষ্টি হওয়ায় বিশেষ ক্ষতি হয়নি। ফসলের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ঝড়—বন্যার শঙ্কা কাটিয়ে গোলা ভরেছেন তারা। এখন ভরা বর্ষায় গবাদি পশু পালনের সবচেয়ে জরুরি কর্তব্য গো—খাদ্য নিশ্চিত করছেন।
শনির হাওরপাড় ভাটি তাহিরপুর গ্রামের পঙ্কজ রায় বলেন, তিনি ৫টি গরু পালন করেন। জমি চাষাবাদ করেন সোয়া দুই কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার)। তিনি জানান, সোয়া দুই কিয়ার জমির যে পরিমাণ খড় সংগ্রহ হবে তাতে গরুর কোনরকমে বর্ষাকালে ২ মাসের খোরাক হবে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে শনির হাওরের জমিগুলোতে কম্বাইন হারভেস্টারে ফেলে যাওয়া খড় জমির মালিকদের নিকট থেকে ক্রয় করে বসত বাড়িতে এনে টাকুয়া দিয়ে রেখেছেন। ঐ খর আগামী হেমন্ত মৌসুম পর্যন্ত গরুর খাদ্য হিসাবে চলবে বলে তিনি জানান।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের আনন্দনগর গ্রামের কৃষক ওয়াসিম আহমদ জানান, বিগত বছরগুলোতে হাওরডুবি ও পরবর্তী ভয়াবহ বন্যার কারণে গো—খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছিলো। তখন তিনি ৭ টি গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন। পরে ১৫শ টাকা মন খড় কিনতে হয়েছে। তাই এ বছর ধান তোলার পর গ্রামের সবাই খড় সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নোয়াল হাওরের কৃষক হুকুমপুর গ্রামের আবুল কালাম বলেন, এ বছর হাওরে বোর ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। ধান শুকিয়ে গোলায় তোলা শেষ হয়েছে। বর্ষাকালে গরুর খাদ্যের জন্য খড় শুকিয়েও বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আত্মীয় স্বজন নিয়ে খড় উঠানোর কাজ করেছি। সেদিন দুপুরে সবাইকে নিয়ে উৎসবের সাথে খাওয়া—দাওয়া হয়েছে। হাওরপাড়ের মানুষ এখন পানি আসলে মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম জানান, এ বছর বোর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তাহিরপুরের হাওরগুলোতে শতভাগ ধান কর্তন শেষ। এখন তারা গো—খাদ্য সংগ্রহের কাজ করছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন