জামালগঞ্জ

সুরমার চরে বাদাম চাষ

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৫ ২২:১১

হাওর ও চর বেষ্টিত জামালগঞ্জ উপজেলার চাষ হচ্ছে সম্ভাবনাময় বাদাম। জেলার তাহিরপুর বাদাঘাট অঞ্চলের মতো জামালগঞ্জে বাদাম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এবার ৫০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। ভালো ফলন এবং ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় বাদাম চাষে ঝঁুকছেন উপজেলার কৃষকেরা। কৃষকদের দাবি, সরকারি সহযোগিতা পেলে, তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন।


এদিকে ঝড় বৃষ্টির কারণে বাদামের ক্ষতি হতে পারে জানিয়ে বাদাম ফসলকে রক্ষা করতে আগে ভাগেই বাদাম তুলে ফেলার আহবান জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষকেরাও বাদাম তোলা শুরু করেছেন। আর যারা একটু উঁচু জমিতে বাদাম চাষ করেছেন তারা সপ্তাহ খানেক পরে বাদাম তুলবেন।


উপজেলার সর্ববৃহৎ হাওর পাকনা, হালি, শনি, মহালিয়াসহ বিভিন্ন হাওরে ধান চাষ হচ্ছে। এদিকে সুরমা নদীর দুই পাড়ে বছরের পর বছর পলি পরে চর জাগাচ্ছে। সেই চর এখন বাদাম চাষীদের ভাগ্য খুলে দিয়েছে। বর্ষায় হাওরে থৈ থৈ পানি থাকে। জমিতে শীত মৌসুমে রবিশষ্যের সবুজের সমারোহ। পুরো নদীর চরের এই সবুজ প্রকৃতি মন কারে কৃষকের। এদৃশ্য যেন কৃষকের মন জুড়ায়।


সম্প্রতি জামালগঞ্জের সুরমা নদীর দুইপাড়ে চর অঞ্চলে দেখা যায় পুরো দুই পাড় বাদামের সারিবদ্ধ মাট সবুজে ভরপুর। প্রতিটি চরে কৃষকের কর্মব্যস্ততা দেখা যায় চোখে পড়ার মতো। এসব চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর যাবৎ নদীর দুই পাড়ে চর জেগে উঠায় বাদামের চাষ হয়ে আসছে। এর আগে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট অঞ্চল বাদাম চাষের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। কম খরচে ফলন বেশী হওয়ার বেশীর ভাগ চাষী ধান চাষের পাশাপাশি বাদাম চাষের দিকে নজর দিচ্ছে।

 


জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের বাদাম চাষী শামীম মিয়া বলেন, ১০ বছর আগেও এই এলাকায় বাদাম চাষ খুবই কম ছিল। বর্তমানে সুরমা নদীর দুই পাড়ে চর জেগে উঠায় কয়েক বছর যাবত বাদাম চাষ করে আসছি। আমি ২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। গত বছর প্রতি কেজি বাদাম ১০০ টাকা এবং পাইকারী ৮০ টাকা কেজি বিক্রয় করেছি। এবছর আশা করি ৮ থেকে ৯ মন প্রতি বিঘায় বাদাম হবে।
চানপুর গ্রামের আর এক চাষী মো: বন্দে আলী, শরিফপুর গ্রামের আহসান উল্লাহ, নূরপুর গ্রামের ইউসুফ আলী পাঠান বলেন, আমরা দুই বছর যাবত বিভিন্ন রকমের শাকসবজি ও উচু জমিতে বাদাম চাষ করছি। এছাড়াও কিছু জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছি। এগুলো চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছি।


তারা আরো বলেন সূর্যমুখীর তেল বিক্রি করিয়া সারাবছর আমাদের পরিবার এই তেল দিয়ে রান্নার কাজ করেন। বাদাম কিছু রেখে বিক্রি করে ফেলি। এবারও অন্য বছরের চেয়ে বেশী বাদাম পাওয়ার আশা করছি। আমরা মনে করি ৪—৫ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে কয়েক বিঘা জমিতে শাক—সবজি, বাদাম সূর্যমুখী চাষ করলে বিদেশে এক বছরে যে টাকা পাওয়া যায়, তার চেয়ে বেশী লাভ হয়।


উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায় এই উপজেলায় এবছর ৫০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। বেশীর ভাগ কৃষক চিনা বাদাম বারি— ৮ ও বারি— ৪ রোপন করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং নদীর চরে পলি মাটি থাকায় বাদাম চাষের উপযোগী হওয়ায় কয়েক বছর যাবত ভালো ফলন হয়ে আসছে। এই উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে ৯৫ মেট্টিক টন বাদাম উৎপন্ন হবে, যা বর্তমান বাজারে ৩ হাজার ২শ টাকা মণ হিসেবে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার বাদাম উৎপন্ন হবে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন কুমার সাহা জানান, উপজেলার ৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশী হয়েছে সুরমা নদীর দুই পাড়ের চর অঞ্চলে। বাদাম চাষ বেলে, দো—আঁশ মাটিতে ভালো হয়। অন্যান্য ফসলের চেয়ে বাদাম চাষে খরচ ও পরিশ্রম অনেক কম লাগে, তবে লাভ বেশী।


তিনি আরও বলেন, সামনের দিন গুলোতে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাদাম তুলতে এবং শুকাতে কষ্ট হতে পারে তাই কৃষকের কষ্টের ফসল যেন নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা কৃষকদের জানিয়েছি দ্রুত বাদাম তুলে নেওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে কৃষকেরা বাদাম তুলতে শুরু করেছেন। বাদাম চাষ লাভ জনক এবং সম্ভাবনাময় ফসল। এই উপজেলায় বাদাম চাষের চাহিদা বাড়ছে। আগামীতেও অনেকে লাভজনক হওয়ায় বাদাম চাষে আগ্রহ জানিয়েছেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার