প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৫ ২২:১৩
তাহিরপুরের মাহতাবপুর গ্রামে দু’পক্ষের দ্বন্ধের কারণে সেতুর কাজ গত তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪—২৫ অর্থ বছরে ৮টি প্যাকেজে ৩ কোটি টাকার কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মেসার্স সোনা মিয়া ট্রেডিং। ৮টি প্যাকেজের ৭টি প্যাকেজের কাজ সমাপ্ত করতে পারলেও মাহতাবপুর গ্রামের সেতুর কাজটি গ্রামের দু’পক্ষের দ্বন্ধের কারণে শেষ হচ্ছে না। সেতুর কাজটি মাটির কাজ শুরু করার পরই একটি পক্ষের বাঁধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। মাহতাবপুর সেতুর কাজের প্রাক্ষলন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ লক্ষ টাকা।
সেতুর কাজ শুরু দ্রুত শুরু করার জন্য বুধবার তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে মাহতাবপুর গ্রামের পক্ষ থেকে ফরিদ উদ্দিন,তৌফিক মিয়া,বোরহান উদ্দিন,আনোয়ার হোসেন,বাবুল মিয়াসহ ১২ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়,মাহতাবপুর গ্রামের কবরস্থান হইতে মাহতাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কর্তৃক নদী ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সেতুর কাজ চলমান ছিল। হঠাৎ করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজটি বন্ধ রাখতে তৎপর হয়ে উঠে। এমতাবস্থায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীবৃন্দ ও গ্রামের সাধারণ জনগণ তথা এলাকাবাসী যাতায়াত করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া এই সড়ক সংলগ্ন বোরো, আমন জমিনের ফসলাদি আনা নেওয়া করতে এলাকাবাসী কষ্ট করেছেন। দ্রুত সময়ের মদ্যে সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে নদী ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দাবি জানানো হয় আবেদনে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মেসার্স সোনা মিয়া ট্রেডিং এর সত্তাধীকারী জুনায়েদ আহমদ বলেন, মার্চ মাসের শুরুতে তিনি সেতু নির্মাণ কাজের মাটির কাজ শেষ করেন। নির্মাণের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে গেলে গ্রামের একটি পক্ষের বাঁধায় বন্ধ হয়ে যায়।
মাহতাবপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিন বলেন, মাহতাবপুর গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল এই রাস্তার উপর সেতু নির্মাণ। সেতু নির্মাণ কাজ যেন দ্রুত সময়য়ের মধ্যে শুরু করা হয় সেজন্য তিনি গ্রাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহিবুল ইসলাম বলেন, মাহতাবপুর গ্রামের সড়কের উপর সেতুর অবস্থান। সেতুটি নির্মাণ হলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সহ সাধারণ লোকজন সহজেই আসা যাওয়া করতে পারতো। এছাড়া বর্ষাকালে বৌলাই নদী ও বৃষ্টির পানি সহজেই নিস্কাশন হতো। তিনি আরো জানান, মাহতাবপুর গ্রামে দু’পক্ষের দ্বন্ধের কারণে নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন