স্থায়ী বাঁধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৫ ২২:১৮

যাদুকাটা, বৌলাই, পাটলাই ও রক্তি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে

তাহিরপুরের যাদুকাটা, বৌলাই, পাটলাই ও রক্তি নদীর পানি প্রবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরের স্থায়ী বেরী বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার বৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওর তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া, হালিরসহ ২৩টি হাওরে ধান কাটা শেষ হয়েছে পক্ষকাল আগেই। ২৩ টি হাওরের মধ্যে হাওরে পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশনের জন্য শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরে স্লুইসগেট রয়েছে। সমসার হাওরে স্লুইসগেট থাকলেও এটি ৪ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে মহালিয়া, বলদা, বনুয়া, নান্দিয়া, গুরমা বর্ধিতাংশ, নোয়াল, গলগরিয়া, কাটুয়াউরা, পালই, ছিরিয়ারগাঁও হাওর, তালইর বিলসহ ২৩টি হাওরে পানি প্রবেশ ও নিস্কাশনের জন্য কোন স্লুইস গেট নেই। হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন , গত দু’দিন ধরে হাওরে  যে পরিমাণ নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে কোন সময় হাওরের স্থায়ী বেরীবাঁধ ভেঙে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এ বিষয়ে জরুরিভাবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বোর ফসলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বিশেষ করে বর্তমানে হাওরগুলোতে মা মাছগুলো পোনা ছাড়া শুরু করেছে। এক শ্রেণির মৎস্যজীবীরা প্রচুর পরিমাণে পোনামাছ আহরণ করে প্রতিনিয়তই হাটবাজারগুলোতে এনে বিক্রি করছে। এমতাবস্থায় হাওরে পানি থাকলে মৎস্য আহরণকারীরা পোনা মাছ ধরতে পারবে না।


নান্দিয়া হাওরপাড়ের বাসিন্দা ছিলানি তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, পাটলাই নদীর পানি প্রচুর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিনারিয়া, পানা, বনুয়া, নান্দিয়া, গুরমা বর্ধিতাংশ, নোয়াল, গলগরিয়া, কাটুয়াউরা, পালই, ছিরিয়ারগাঁও হাওর, তালইর বিলসহ আশপাশের অনেকগুলো হাওরে পানি প্রবেশ ও নিস্কাশনের জন্য কোন স্লুইস গেট নেই। সেজন্য ঐসকল হাওরপাড়ের কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কখন জানি কোন দিকে হাওরের স্থায়ী বেরীবাঁধ ভেঙে যায়। সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সরজমিন পরিদর্শন করে স্থান নির্ধারণ করে বাঁধ কেটে দেয়ার জন্য পাউবো’র কর্মকর্তাদের প্রতি দাবি জানান।


শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মহসিন মিয়া বলেন, শনির হাওরে ১৫দিন আগেই ধান কাটা শেষ। গত দু’দিন ধরে বৌলাই নদীর পানি প্রবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শনির হাওরের বগিয়ানি স্লুইসগেটটি খুলে হাওরে পানি প্রবেশ না করালে হাওরের যে কোন দিক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে বলে তিনি জানান।


তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন,শনির হাওরের স্লুইসগেট খুলে দেয়ার জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।
তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, কেবলমাত্র মাটিয়ান হাওরের স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। শনির হাওরের গেট খুলে দেওয়ার জন্য ফসলরক্ষা বাঁধ কমিটি নিয়ে সভা করতে হবে। তাছাড়া যে সকল হাওরে স্লুইসগেট নেই সেগুলোতেও হাওরে পানি প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে বর্ধির্ত গুরমা হাওরে পানি প্রবেশ করানোর জন্য পানা হাওরের দিকে কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার