মা ও পোনা মাছে সয়লাব বাজার   

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৫ ০৯:৩৬

জেলার হাওরগুলোতে এখনো পানি আসে নি। বৃষ্টির পানি আবদ্ধ হয়ে মাছগুলোর ছুটে চলার পথ সৃষ্টি হয়েছে মাত্র। দৌঁড়ে বেড়ানোর মতো পানি না থাকায় সীমাবদ্ধ পানিতেই হাওরে এখন মাছেদের বসবাস। তুলনামূলক কম পানিতে পোনা ছাড়ছে কোনো কোনো মা মাছ। কোনো কোনো মা মাছ এখনো অপেক্ষায় আরো বেশি পানির। এমতাবস্থায় মাছ ধরতে নতুন পানিতে জাল ফেলছেন জেলেরা। এতেই ধরা পড়ছে মা মাছ। পোনা মাছের বেশি চাহিদা থাকায় বিশেষ শ্রেণির জেলেরা খুঁজে খুঁজে ধরছেন পোনা মাছও। বিশেষ করে টাকি, শোল ও গজার মাছের পোনা। এছাড়াও একাধিক জাতের মা মাছ ধরা পড়ছে প্রতিদিন। এগুলো আবার ঘটা করে বাজারে বাজারে বিক্রি করছেন জেলেরা। এতে আগামী দিনগুলোতে দেশি জাতের মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।
সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রানী বিশ্বাস জানান, সাধারণত একটি টাকি মাছ একবারে কয়েক হাজার পোনা ছাড়ে। মা মাছ, দম্পতি মাছ ও পোনা মাছ আহরণ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ মৎস্য আইনে টাকি—শোল মাছের পোনা ধরলে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট (চৈত্র মাসের মাঝামাঝি হতে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি) পর্যন্ত শোল, গজার, টাকি মাছের পোনা ঝাঁক বা দম্পতি মাছ ধরা ও ধ্বংস করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। কেউ এ আইন অমান্য করলে অর্থদণ্ড ও জেল কিংবা উভয়দণ্ড হতে পারে। মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০ এর ক্ষমতা বলে প্রনীত Protection and Conservation of Fish Rules, ১৯৮৫ এর বিধি—৭ এ এসব তথ্য রয়েছে। এটা এভাবে হতে পারে যার হাতেই পোনা পাওয়া যাবে, সেই অপরাধী। তাহলে খুব সহজে কেউ এগুলো ধরতে, বিক্রি করতে বা কিনতে আগ্রহী হবে না। অন্যান্য মাছের বেলায়ও এমন আইন আছে। জেলার হাওরগুলোতে এখনো তেমন পানি আসে নি। বেশি পানিতে মাছের পোনা ছাড়লে যে সুবিধাটা হতো স্বাভাবিকভাবেই কম পানি হওয়াতে কিছুটা ব্যঘাত ঘটবে।
দেশি মাছের আকাল ঠেকাতে ও মাছ বৃদ্ধিতে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, যে হারে দেশি মাছের পোনো ধরা হচ্ছে এবং মা মাছ শিকার করা হচ্ছে তাতে করে খুব কম সময়ের মধ্যে দেশি মাছের আকাল তৈরি হবে। এজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টজনের কিছু করণীয় পালন করতে হবে বলে আমি মনে করি। সবার আগে অবশ্যই মৎস্য আহোরণকারীদের সচেতন করতে হবে। সাধারণ মানুষ মা মাছ ও পোনা ক্রয় ও ভক্ষণ থেকে দূরে থাকতে হবে। হাওরাঞ্চলে সরকারিভাবে বড় ধরণের মৎস্য চাষ প্রকল্প হাতে নিতে হবে। বড় বড় বিল ইজারা না দিয়ে উন্মুক্ত রাখলে দেশি জাতের মাছ হাওরে ছড়িয়ে পড়বে এবং বেশি পোনার প্রজনন হবে। বিশেষ করে সম্ভাবনাময়ী বড় বড় জলাশয়কে স্থায়ী অভয়াশ্রম ঘোষণা করতে হবে। হাওরের বুক চিরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। হাওরে পানি প্রবেশ করাতে হবে। সবোর্পরি আমাদের সবাইকে মৎস্য আইন মানতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেখার হাওরের এক জেলে বলেন, এখন হাওরে পানি নাই। যার কারণে মাছও তেমন পাচ্ছি না। যে মাছই জালে উঠছে তাই ধরছি। পেটে ক্ষুধা থাকলে বাচবিচারের সময় কই? সরকার আমাদেরকে সহযোগিতা করলে, আমরা অবশ্যই মা মাছ আর পোনা মাছ শিকার করা থেকে বিরত থাকবো। আর আসল কথা হচ্ছে, আমি জানিই না যে পোনা মাছ আর মা মাছ ধরা অপরাধ।
সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামশুল করিম বলেন, দেশি জাতের মাছের পোনা ও মা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা মা ও পোনা মাছ ধরছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া আছে। সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ নানা প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হাওরগুলোতে পানি আসলে সেখানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার