৩২ কোটি টাকার কাজে  অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৫ ০৯:৪৬

শান্তিগঞ্জের নোয়াখালী-ভীমখালী সড়ক

শান্তিগঞ্জের নোয়াখালী—ভিমখালী সড়কের ৩২ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কেউ কেউ ছবি দিয়ে নিম্নমানের পাথর—বালু ব্যবহারের দাবি করেছেন। একইসঙ্গে ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকারীরা প্রকৌশলী অবশ্য বলেছেন, না বুঝেই এসব অপপ্রচার করছেন কিছু মানুষ। আমাদের সঙ্গে কথা বললে, এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার হতো না।
জানা যায়, শান্তিগঞ্জের নোয়াখালী—ভিমখালী সড়কে ৯ কিলোমিটার ৭০০ মিটার দীর্ঘ ঢালাইয়ের কাজ ও চারটি কালভার্টের কাজ করছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডেল্টা ইঞ্জিনিয়ারিং। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই সড়কের কাজের ছবি দিয়ে একজন লিখেন, নিম্নমানের পাথর ও ভিট বালু ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই ছবি দেখে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে, তারা কাজের মান ও ঢিমেতালে কাজ হচ্ছে দাবী করে ক্ষোভ ঝাড়েন।
কাঠালিয়া গ্রামের হোসেন মিয়া বললেন, নিম্নমানের কাজ হওয়ায় একবার এলাকাবাসী কাজ বন্ধ রেখেছিল। রোববার বিকালেও ঠিকাদারের লোকজনকে বলে আসছি ভালো পাথর ধুয়ে ব্যবহার করতে। ন হয় আবারও কাজ বন্ধ করে দেব আমরা। তিনি বলেন,‘মাটি লাগানো পাথর ও ভিট মাটি মিশানো বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এরকম কাজ করলে, দুই বছর পরেই ৩০—৩৫ টি গ্রামসহ জামালগঞ্জের—শান্তিগঞ্জ উপজেলার একটি অংশের মানুষের আবার চলাচলের দুর্ভোগ তৈরি হবে। সরকার দুই বছর পর আবার এই সড়কের জন্য জন্য বরাদ্দ দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সড়কের পাশের গ্রাম কুতুবপুরের শামীম আহমদও বললেন, কাজ ভালো হচ্ছে না। মরা পাথর আর ভিটমাটি বালু হিসেবে কোথাও কোথাও ব্যবহার হচ্ছে।
একই গ্রামের জুলহাস মিয়া বললেন, সরেজমিনে এসে বালু—পাথর দেখলেই বুঝা যাবে কাজ কেমন হচ্ছে। কাজের গতিও সন্তোষজনক নয়। এই জুন মাসে কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কাজের যে অগ্রগতি, আগামী বছরের জুনেও কাজ শেষ হবে না। শুনেছি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বহু টাকা বিলও তুলে নিয়েছে। বিষয়টি সকলের নজরে আনা জরুরি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শামীম আহমদ বললেন, কোন অভিযোগের সত্যতা নেই। আমরা গ্রীণ ট্রাস্টের বালু পাথর ব্যবহার করছি। অনেকেই বুঝতেছেন না সড়কে রাখা কিছু ইটের কোয়া ও ভিট বালু আমরা কালভার্ট এলাকায় বিকল্প সড়কের কাজ করার জন্য রেখেছি। এগুলো মূল সড়কের কাজে লাগানো হবে না। তিনি জানালেন, কাজ সঠিক গতিতেই এগুচ্ছে, নানা বাস্তবতায় আমরা আরও একবছর কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছি। এটি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির উপ—সহকারী প্রকৌশলী শাহীন আলম বললেন, সড়কের কাজ দৃশ্যমান কম হলেও ৩০ ভাগ কাজ শেষ। এই জুনে কাজ শেষ করা যাবে না। এজন্য আরও একবছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। ময়লাযুক্ত কোন পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভিট বালু ব্যবহারের বিষয়টিও সত্য নয়। ঠিকাদার পাঁচ কোটি বিল তুলেছেন, তাও কাজের থেকে বেশি নয়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুল আলম জানান, আমাদের চলমান প্রকল্পগুলো ব্যাপক তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিনিয়তই আমি এসব প্রকল্প পরিদর্শন করি। কোন প্রকল্পেই নিম্ন মানের কাজের কোন সুযোগ নাই। প্রতিটি প্রকল্পেই বুয়েট ল্যাব টেস্টেড রড ও উন্নতমানের (ওয়ার্ক অডার্র অনুযায়ী) বালি, পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। আশাকরছি এই প্রকল্পটি আগামী নভেম্বর—ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে পারবো। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার