টাকা লোপাট, লাপাত্তা কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৪

ছেলের চিকিৎসায় সাহায্য চেয়ে ৬০ হাজার টাকা তুলেছিলেন অসহায় বৃদ্ধা সায়েদা বেগম। চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা খরচের পর বাকি টাকা নিরাপদ থাকবে ভেবে জমা রেখেছিলেন স্থানীয় একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায়। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন—তার হিসাব শূন্য। জমানো সম্বল হারিয়ে এখন অসুস্থ ছেলেকে বাঁচানো নিয়ে চরম দিশেহারা এই মা।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে সায়েদা বেগম বলেন, কষ্ট করে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে ব্যাংকে টাকা রেখেছিলাম। সেই টাকা যদি না পাই, তবে ছেলেকে কীভাবে বাঁচাব?


ঘটনাটি দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের। সেখানে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জমানো অর্থ হারিয়ে যাওয়ার খবরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক।

 

 

 

 


বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, ওই শাখায় ভিড় জমিয়েছেন প্রতারিত গ্রাহকরা। কেউ ব্যাংক স্টেটমেন্টের কাগজ হাতে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউবা দায়িত্বশীলদের কাছে জবাব চাইছেন।

 


ইয়াসমিন নামে সোনাপুরের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিকে নয়, ব্যাংক দেখে টাকা জমা দিয়েছিলাম। আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরত চাই।
গ্রাহক দিদার আহমদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা উধাও হওয়ার খবর দেখে তিনি নিজেও ব্যাংকে এসে নিজের হিসাব যাচাই করেন। এরপর তার মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এতদিন যে জায়গাকে নিরাপদ মনে করে টাকা জমিয়েছেন, সেখানেই যদি টাকার হিসাব না মেলে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

 


অনুসন্ধানে দেখা যায়, জালিয়াতির ধরনও বেশ সুচতুর। এক নারী গ্রাহকের স্বজন অভিযোগ করেন, তার মায়ের দুটি ডিপিএস অ্যাকাউন্টে রাখা ৩ লাখ টাকার মধ্যে এখন পড়ে আছে মাত্র ৭ হাজার টাকা। তিনি জানান, লেনদেনের সময় ‘আগেরটি হয়নি’ বলে একাধিকবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হতো। এভাবে গ্রাহকের অজান্তেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি জালিয়াতি ঢাকা দিতে গ্রাহকদের মোবাইলে ব্যাংকিং লেনদেনের খুদে বার্তা (ঝগঝ) আসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 


ঘটনার পর থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সংশ্লিষ্টদের কাউকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেক গ্রাহক এখন স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে নিজেদের হিসাব যাচাই করছেন। কারও জমাকৃত অর্থ কমে গেছে, আবার কেউ নিজের হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক ছাতক শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এনামুর রহমান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, পুরো লেনদেন প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল রেকর্ড অনুসন্ধান করে অর্থের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করছি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার