প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৫ ২১:৫৮
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার প্রধান সাক্ষী। এ ঘটনায় এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামে।
জানা যায়, গত ১০ মে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় কাবিলাখাই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আখল মিয়ার খড়ের ঘরে আগুন লাগলে গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় গত ১১ মে রবিবার আব্দুর রাজ্জাক আখল মিয়া বাদী হয়ে গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত উলফত উল্লাহ’র ছেলে নুরুল হক, নুরুল হকের ছেলে রাজিব মিয়া ও তাদের গৃহকমীর্ সাগর মিয়াকে আসামী করে শান্তিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আবু মিয়াকে রাখা হয় প্রধান সাক্ষী।
সাক্ষী আবু মিয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডের পরের দিন সকালে আখল মিয়া ও উনার ভাই আব্দুল ছোবহানসহ তাদের লোকজন আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে বলে, তর কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে, সব ক্ষতিপূরণ তুই দিবে, না হলে আমরা যে ভাবে বলবো সে ভাবে চলতে হবে। তারা আমাকে বলেছে, নুরুল হক চাচার বিরুদ্ধে তারা মামলা করবে, ফেসবুকে লাইভ দিবে, আমি যেন নুরুল হক চাচা ও উনার ছেলে রাজিবের বিরুদ্ধে কথা বলি। পরে আমার প্রাণ বাঁচাতে তাদের কথা মতো আমি তাদের মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম লেখাই ও ফেসবুকে লাইভে কথা বলি। আমি যা বলেছি তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তাদের শেখানো কথা।
প্রতিপক্ষ নুরুল হক জানান, আমার ৪টি গরু দুই আড়াই মাস আগে আমর গরুঘর থেকে চুরি হয়েছে। সে সময় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পরে জানতে পারি গরুগুলো আখল মিয়া ও তার লোকজন চুরি করেছে। এ নিয়ে গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়েছে। গ্রাম্য সালিশ অমান্য করে আখল মিয়া আমাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে বৈঠক থেকে চলে যায়। পরে গ্রামের লোকজন আমাদের বিষয়টি দেখে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন। গরু চুরির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই তারা তাদের খড়ের ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আখল মিয়া জানান, নুর মিয়ার ছেলে রাজিব কিছুদিন আগে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল আমার খড়ের ঘর পুড়িয়ে দিবে। গত ১০ মে রাত সাড়ে ৮টার সময় আমার ঘরে তারাই আগুন লাগিয়েছে। এখন আবু মিয়াকে ভয় ভীতি দেখিয়ে নুরুল হক ও তার ছেলে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলাচ্ছে। সাবেক ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য সালিশ ব্যক্তি নুর মিয়া জানান, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি উভয় পক্ষের সমস্যা সমাধান করার। কিন্তু আখল মিয়া গ্রাম্য সালিশ অমান্য করেছে। এখন উভয় পক্ষই মামলা মোকদ্দমায় চলে গেছেন।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি আকরাম আলী জানান, খড়ের ঘর পুড়ানো ও গরু চুরির বিষয়ে দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাাই গ্রামের উভয় পক্ষের দুইটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুইটি বিষয় গুরুত্বের সাথে আমরা দেখছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন