প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৫ ২২:৩১
অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পারায় তাহিরপুরে এ বছর বাদাম চাষে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। বাদামের ফলন ও বাজারদর দুটোই ভালো থাকায় সার্থক হয়েছে তাদের পরিশ্রম।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাড়া তাহিরপুরের বাকি ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫শ’ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা বাদাম চাষে মাইজাচর, পি দানা, ঢাকা—১, ঝিঙ্গা, বারি—৪ ও ৫ জাতের বীজকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
বাদাঘাট ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন জানান, এ বছর প্রতি কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে ৮ থেকে ৯ মণ বাদাম হয়েছে। প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। তিন কিয়ার জমির বাদাম বিক্রয় হয়েছে ১ লাখ টাকায়।
মাহতাবপুর গ্রামের বাদামচাষী বিপ্লব হাসান ইমন বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে তেমন শ্রম দিতে হয় না। এছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদামে রোগবালাই কম হওয়ায় কীটনাশক প্রয়োগের ঝামেলা কম। মাঝে মধ্যে দু—একবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করলেই হয়। বাজারে বাদামের ভালো দাম থাকায় কয়েক বছর ধরে বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এখানকার চাষিরা।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ভাটি জামালগড় গ্রামের সবুজ মিয়া জানান, তিনি তার পাঁচ কিয়ার জমিতে বাদাম পেয়েছেন ৪০ মণ। প্রতি মণ বাদাম বিক্রি করছেন ৪ হাজার টাকায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলার ওই ৬টি ইউনিয়নের বেলে মাটি যে ধরনের বাদাম চাষের উপযুক্ত কৃষকরা সেই জাতগুলো বেছে নেওয়ায় সাফল্য পেয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এবার রোগ বালাইয়ের উপদ্রপ তেমন ছিল না। আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। সেই সঙ্গে ভালো বীজ পাওয়ায় কৃষকদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন