সওজের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:৩২

ভাড়াও আদায় করছেন স্থানীয় দখলদাররা 

সুনামগঞ্জে মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট, গড়ে উঠেছে হাট বাজার। যার কারণে প্রতিনিয়ত রাস্তায় লেগে থাকে জ্যাম, ঘটে দুর্ঘটনা। অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছেন স্থানীয় দখলদাররা। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ফের গড়ে উঠে এসব অবৈধ স্থাপনা।


মহাসড়কের ১০ মিটারের (৩০ ফুট) ভেতর দোকানপাট, হাটবাজার সহ যে কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের এই রায় বাস্তবায়ন করতে ২০২১ সালে মহাসড়ক আইন তৈরি করে এসব স্থাপনাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মহাসড়ককে নিরাপদ রাখতে দুইপাশের জায়গা অধিগ্রহণও করেছে সরকার। তবে আইন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে পাশে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও হাট বাজার। সুনামগঞ্জের ছাতক, কৈতক, পাগলা বাজার, শান্তিগঞ্জ, মদনপুর পয়েন্ট, নীলপুর ও পৌর শহরের ওয়েজখালিসহ ৬০ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে নির্মিত হয়েছে প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও বাজার। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক ভাড়া নিচ্ছেন স্থানীয় দখলদাররা। ব্যবসায়ীরা জানান, জায়গা যাদের দখলে, তাদেরকে ভাড়া দিয়েই ব্যবসা করছেন তারা।


মদনপুর পয়েন্টের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা  জেইেন দোকান খুলেছি। যখন সরকার চাইবে ভাঙবে। গত বছর উচ্ছেদের সময় আমার দোকান ভাঙা হয়েছিল। এরপর আবার দোকান নির্মাণ করেছি। এভাবে সব জায়গায় চলছে।
আরেক ব্যবসায়ী জহির মিয়া বললেন, বারবার উচ্ছেদ হয়, এরপরেও বসতে হয়  পেটের তাগিদে। অবৈধ বিপদজনক জেনেও ব্যবসা করছি। বিদেশে থেকেও কিছু করতে পারি নি। দেশে এসে এই পয়েন্টে ব্যবসা করে কোনো রকম জীবন পার করছি। সরকারি জায়গায় ব্যবসা করতেও ভাড়া দিতে হচ্ছে দখলদারকে।


পৌর শহরের ওয়েজখালি পয়েন্টের ব্যবসায়ী আলমগীর বলেন, দোকান আমার নয়। ভাড়া নিয়ে দোকান খুলেছি। প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা ভাড়া দেই, যিনি এই দোকানের জমি দখলে আছেন। সওজের পক্ষ থেকে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও নজরদারি’র অভাবে আবার স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ সচেতন মানুষের। উচ্ছেদের পাশাপাশি এসব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে, বারবার সরকারি জায়গা দখল হতো না বলে দাবি তাদের।


নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সুনামগঞ্জের সভাপতি মহিম তালুকদার বলেন, মহাসড়ক আইনে আছে, সড়কের দুইপাশে জায়গা দখল করে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু স্থানীয়রা জায়গা দখল করে ব্যবসা করেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। সড়ক জনপথ উচ্ছেদ করলেও স্থানীয়রা আবার দখল করে। এটা থেকে বের হতে হলে নির্দিষ্ট কর্মস্থান তৈরি করে দিতে হবে, তাহলে আর তারা সরকারি জায়গা দখল করবে না।


সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং বলেন, মহাসড়ক নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সড়কের উভয়পাশে আমাদের অধিগ্রহণকৃত জায়গা আছে। সেখানে স্থাপনা নির্মাণ বা বাজার বসানো নিষেধ। এরপরেও স্থানীয়রা দখল করে, আমরা সেগুলো উচ্ছেদও করি। সুনামগঞ্জে আগামী অক্টোবর মাসে আবারও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। বারবার উচ্ছেদের পরও যেভাবে সারাদেশে স্থাপনা গড়ে ওঠে- এমন হলে পাহারাদার নিয়োগ করা লাগবে। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার