প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৫ ২১:১২
জামালগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে ভোগান্তি
জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বৃষ্টি হলেই সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে করে ব্যাহত হয় যান চলাচল, ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং খানাখন্দের কারণে বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে যায় পানি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন হাট বাজারে পানি জমে যায়। ভারী বর্ষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সাচনা বাজার, নোয়াগাঁও বাজার, ভীমখালী বাজার, সেলিমগঞ্জ বাজার ও বেহেলী বাজারে সড়কে জমে থাকা পানি ও কাদার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিক্সা চালক, ক্রেতা-বিক্রেতা ও পধচারীদের।
স্থানীয়রা জানান, অল্প বৃষ্টি হলেই সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে যানবাহনের চলাচল তো দূরের কথা, সাধারন মানুষজনও বাজারে যেতে চান না। ড্রেনেজ ও খানাখন্দ সংস্কার করা হলে বাজারে আসা যাওয়া ক্রেতা বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী নূরুল হক বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং রাস্তাগুলো চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়ে, যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনাও কমে যায়। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মোটরসাইকেল চালক দেবল দেবনাথ বলেন, পানির মধ্য দিয়ে মোটরসাইকেল চলালে রাস্তার অবস্থা বোঝা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। যদি বাজারের খানাখন্দ সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতাম। আমাদের দাবি প্রতিটি বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খানাখন্দ সংস্কার করা হোক।
অটোরিক্সা চালক শামীম আহমেদ জানান, আমি প্রতিদিন অটোরিক্সার যাত্রীদের নিয়ে চলাচল করি। রাস্তার খানাখন্দের কারণে যাত্রীরা যখন ঝাঁকুনিতে পড়ে তখন প্রশাসন ও সরকারকে অভিশাপ দেয়। খানাখন্দের কারণে রাস্তায় পানি জমে থাকায় অটো অনেক সময় উল্টে যায়। একবার আমার গাড়ি উল্টে যাত্রীদের অনেকে আহত হয়েছে, আমার নিজ খরচে তাদের চিকিৎসা করতে হয়েছে।
নোয়াগাঁও বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম কাপ্তান জানান, অল্প বৃষ্টিতে নোয়াগাঁও বাজারের মাঝ গলিতে পানি জমে যায়। এই সমস্যা আমরা কয়েক বছর যাবত ভুগছি। বাজার সড়কে বড় বড় খানাখন্দ, এছাড়াও ডেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি খুব দ্রুত বাজারে খানাখন্দ সংস্কার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দিন।
সাচনা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদ জানান, প্রতি বছর কোটি টাকার উপরে রাজস্ব সাচনা বাজার থেকে নেওয়া হয়। এর একটা অংশ প্রকল্প আকারে উন্নয়নে ব্যয় করা হয়ে যাকে। সিএনবি রোড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর স্যার জরুরী বৃত্তিতে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করায় বাজারবাসী অনেক উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু বাজারের অপর অংশ সাচনা, বেহেলী রোডে খানাখন্দ সংস্কার না করার প্রতিনিয়তই দুর্ঘঘটানা সহ যাত্রী ও জনসাধারণ ভোগান্তিতে পড়ছে। আমি এটি দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হানিফ মিয়া বলেন, সাচনা কামিনীপুর সড়কের সাচনা বাজার থেকে শুরু করে অটোস্ট্যান্ডে ইউনিয়ন পরিষদের এডিপির বরাদ্দ থেকে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। যার কারণে সাচনা বাজার থেকে আমার ইউনিয়নের লোকজনের চলাচল করতে আর অসুবিধা হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, সাচনা বাজারে সিএনবি রোডে ২০ লক্ষ টাকা এবং সাচনা কামিনীপুর সড়কে এডিপির বরাদ্দ থেকে ৪ লক্ষ্য ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে সাচনা বাজার ও নোওয়াগাঁও বাজার সহ অন্যান্য বাজারের রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন