প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৫ ২৩:২৩
তাহিরপুরে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারী নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ কৃষকদের মধ্যে আলোচনা—সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. নুরুল হক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ধান সংগ্রহ করছেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। এ কারণে সরকারী খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারছেন না সাধারণ কৃষকেরা।
গত ২৮ মে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহ কৃষকরা উপজেলা মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় প্রকৃত কৃষকরা ধান দিতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসেম।
উপজেলার বড়দল গ্রামের কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, তাহিরপুর উপজেলা গোডাউনে ধান দিতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছেন তিনি। ধান শুকনা কম (আদ্রতার) অজুহাত দেখিয়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা নুরুল হক তাকে তিনদিন ঘুরিয়েছেন। অথচ তার সামনেই ব্যবসায়ীদের নিম্নমানের কম শুকনা ধান নিতে দেখেছেন তিনি। অনিয়ম— দূনীর্তির কারণে তাহিরপুর খাদ্য গুদামে প্রকৃত কৃষকরা মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একজন মিল মালিক (নাম ছাপাতে চান নি) বললেন, মাঠ পর্যায়ে তারা কৃষকদের কাছ থেকে এক হাজার কিংবা ৫’শ টাকা দিয়ে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন এবং খাদ্য গুদাম কমকর্তাকে প্রতিটনে আরও এক হাজার টাকা দেন। এজন্য তাদের ধান দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মাহবুব চৌধুরী বলেন, এক টন ধান দেওয়ার জন্য কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করছি, কিন্তু দিতে পারছি না। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের ধান নিতেই ব্যস্ত।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, তার ইউনিয়নের একাধিক কৃষক তাকে জানিয়েছন খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলে আদ্রতার কথা বলে তাদের ঘুরানো হচ্ছে। বিষয়টি তিনি মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও জানিয়েছেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নুরুল হক বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করছেন তিনি। একটি পক্ষ বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট করে ধান দিতে চান, নেননি বলে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলেন তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, একসঙ্গে তো সব ধান নেওয়া সম্ভব নয়, পর্যায়ক্রমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান নিচ্ছেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম বললেন, বিষয়টি মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি জেনেছেন। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নয় কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করতে হবে। প্রকৃত কৃষকদের সঙ্গে টালবাহানা করলে চলবে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন