প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৫ ২১:২৭
পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুরে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে
তাহিরপুরে বন্যা পরিস্থিতি ও সতর্কতা অবলম্বনে ৭টি ইউনিয়নে ৩৯টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
গত তিনদিন ধরে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এমন আশঙ্কায় বন্যাশ্রয় খুলেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও জরুরী প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. আবুল হাসেম।
গত ৩ দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ও পাহাড়ি ঢলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, মাহারাম, রক্তি পাটলাই নদী দিয়ে ঢলের পানি নেমে তাহিরপুরের নিম্নাঞ্চলের ৫০টিরও বেশী গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। অপরদিকে নদী ও হাওরের পানি একাকার হয়ে নদী তীরবর্তী ও হাওরপারের গ্রামগুলো ঝড়ো হাওয়ায় বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের মুখে পড়েছে। এছাড়া দৈনন্দিন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ও মৎস্য আহরণকারী জেলেরা বিশাল ঢেউ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহার ও অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।
এলাকাবাসীসূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত গ্রামগুলো হলো— উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর, রামজীবনপুর, সাহেব নগর, পৈন্ডুপ, গোপালপুর, মারালা, নোয়ানগর, নোয়াগাঁও, ইক্রামপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, সুলেমানপুর, উমেদপুর, আনন্দনগর, পাটাবুকা, ভবানীপুর, দুমাল, লামাগাঁও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর, ইন্দ্রপুর, পানিয়াখালী, জয়পুর, গোলাবাড়ী, ছিলানিতাহিরপুর, ভোরারঘাট, কামালপুর জামালপুর, মাটিয়ান দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের বড়দল, জামলাবাজ, টাকাটুকিয়া, রসুলপুর, কাউকান্দি, কামারকান্দি বাদাঘাট ইউনিয়নের ধরুন্দ, কাঞ্চনপুর, ইউনূছপুর পাতারগাঁও সহ অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
এছাড়া উত্তর বড়দল বাদাঘাট, বালিজুড়ি, উত্তর শ্রীপুর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন ধানের শতশত একর জমির বীজতলা ও শাকসবব্জির ক্ষেত ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, তাহিরপুরে বন্যা পরিস্থিতি ও সতর্কতা অবলম্বনে ৭টি ইউনিয়নে ৩৯টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন