ঈদ বাণিজ্যে চোরাচালান

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৫ ০৯:০৮

ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে সীমান্তে সক্রিয় চোরাকারবারি গ্রুপ। টার্গেট গরু, শাড়ি আর রান্নার মশলা। অবৈধপথে ভারতীয় গরু আনার খবর নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে দোয়ারাবাজার ও মধ্যনগর  সীমান্ত গরু চোরাকারবারিতে প্রসিদ্ধ। শাড়ি, মশলাসহ অন্যান্য ভারতীয় পণ্য আসে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে। তবে এসব চোরাচালান রুখতে তৎপর আছে বিজিবিও। গত ৬ দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি অবৈধ পণ্য টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জব্দ করেছে সীমান্তরক্ষীরা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
আসন্ন কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তৎপরতা বেড়েছে চোরাকারবারিদের। বিভিন্ন কৌশলে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে ভারতীয় গরু। জেলার বেশ কয়েকটি পশুর হাটে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। সড়ক ও নৌপথ ব্যবহার করে জেলা ছাড়িয়ে গরু—মহিষ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। 
মধ্যনগর উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঙ্গালভিটা, কাইতকোনা, গিলাগরা,  কলাছড়া, কড়ইবাড়ি, মাটিয়াবন, মহনপুর সহ সীমান্তের অন্তত ১০—১৫ টি পয়েন্ট দিয়ে আসছে চোরাচালানের গরু—মহিষ। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বয়ষ্কদের পাশাপাশি এসব কাজে যুক্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। সীমান্ত পার করে মধ্যনগর থেকে নেত্রকোনা হয়ে চোরাচালানের গরু মহিষ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান মিনু তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, আমি এলাকার সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মধ্যনগর উপজেলার মহেশখলা ও বাঙালভিটা সীমান্তপথে দিন দিন বেড়ে চলা গরু, চিনি, ভারতীয় মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় মদ প্রবেশ করে। তরুণ সমাজ ধীরে ধীরে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। গরু ও চিনির চোরাচালানে স্থানীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে। আমরা চাই মধ্যনগরের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ্য, শিক্ষিত এবং নেশামুক্ত হোক। তিনি চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য যুব সমাজের প্রতি আহবানও জানান।
একইভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা, মোকামছড়া, প্যাকপাড়াসহ ১০—১২টি পয়েন্ট দিয়ে আসে ভারতীয় চোরাই মাল। এরপর ছাতক ও সুরমা নদী হয়ে উভয়পথে চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর গরু—মহিষ চোরাকারবার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি রমজান আলী জানান, তার খামারে ২৫ টি গরু আছে। ৫ টি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন। দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো পেয়েছেন। কারণ হিসেবে বলছেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে যেসব অবৈধ গরু আমদানি করা হতো, তা অনেকটাই কমেছে। সদর উপজেলার চিনাউরা মালাওগাঁও, আসাউড়া সীমান্ত দিয়ে বিগত বছরের তুলনায় কম গরু এসেছে।
আরেক খামারি জহির মিয়া বলেন, তার খামারের ৬টি গরু বিক্রি করেছেন। পরিচর্চা ব্যয় বাবদ একলক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদি ভারতীয় গরু আমদানি একেবারে কমানো যেত, তাহলে ক্ষতি কাটিয়ে আরও দু—তিন লাখ টাকা আয় বেশি হতো।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বাইরের দেশের গরু মহিষ দেশে আসলে আমাদের জন্য অমঙ্গল। এর জন্য উপদেষ্টাও সতর্ক এবং নিয়মিত দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। কোথায় কার কতটি গরু আছে তা আমাদের সার্ভে করা আছে। কেউ চাইলেই ভারতীয় গরুকে নিজের বলতে পারবে না। জাত দেখেই চেনা যায় কোনটা কোন দেশের গরু। কুরবানীর বাজারে যদি প্রশাসন চায় চিহ্নিতকরণের জন্য আমরা আমাদের লোকবল দিয়ে সেই সহযোগিতা করতে পারি।
এদিকে চোরাচালান ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বিজিবি। টহল ও নজরদারি বৃদ্ধিসহ বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ এক অভিযানে দুই কোটি টাকা মূল্যের শাড়ি, জিরা ও ক্রীম জব্দ করা হয়েছে। গত ৫ মাসে শুধু বিজিবির হাতে আটক হয়েছে ৪৬৫ টি গরু। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১১ লক্ষ টাকা।
বিজিবি ২৮ ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, ঈদকে টার্গেট করে সীমান্তে চোরাকারবারিরা তৎপর হয়েছে। তাদের তৎপরতা ঠেকাতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি  করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন অভিযানে ব্যাপক চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালান ঠেকাতে স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চোরাকারবারিদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার