প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৫ ১৪:২৭
তাহিরপুরে এক কিশোরী বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভাই বোন ও এক শিশুর মুখে কালি লাগিয়ে রশি দিয়ে বেধেঁ নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩জুন) সকালে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম ও ঘাগটিয়ার মুশাহিদের বাশঁবাগানে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার (৪জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নির্যাতনের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠে। এ ঘটনায় কিশোরী বৃহস্পতিবার (৫জুন) সন্ধায় ৫ বখাটের নাম উল্লেখ করে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্তরা হলো, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. রিপন মিয়া (২৫), মাফিক মিয়ার ছেলে মো. রাকিব মিয়া (২৩), ছয়ফুদ্দিনের ছেলে জুনায়েদ মিয়া (১৯), রানা মিয়া (২৪), পার্শ্ববর্তী মানিগাও ইসলামপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে শামিম মিয়া (২১)।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ছেলে ও এক কিশোরীর মুখে কালি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বেশ কিছু লোকজন তাদের নিয়ে হাসাহাসি করছে এবং মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারন করছে। কেউ কেউ বলছেন, বাগানে টিকটক করতে এসে কট খাইছে, উপস্থিত কয়েকজন আবার তাদের বিয়ে ও বিচার দাবী করেছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের এক কিশোরী গোসল করে সে আর তার বড় ভাই ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ ঘরের পিছনের বেড়া ভেঙ্গে অভিযুক্ত রানা মিয়ার নেতৃত্বে ৫ জনের একটি গ্রুপ ১২ বছরের রানা নামে এক শিশুকে কিশোরীর পাশে জোরপূর্বক বসিয়ে ছবি তুলতে চায়। এসময় কিশোরী ও তার বড় ভাই বাধা দিলে তার ভাইকে রশি দিয়ে বেধে মাটিতে পেলে রাখে এবং কিশোরীকে মারধর করে। একর্যায়ে কিশোরীর মুখে ও শিশুটির মুখে কালি লাগিয়ে মারতে মারতে ঘরের পার্শ্ববর্তী মুশাহিদের বাশবাগানে নিয়ে লোকজন জড়ো করে মব সৃষ্টি করে ভিডিও ধারণ করে। এঘটনা শুনে স্থানীয় রানু মেম্বার ও নোওয়াজ আলী মেম্বার ঘটনাস্থলে এসে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু বখাটেরা তাদের ছাড়েনি। পরে রাত ৯টার দিকে কিশোরী তার ভাই ও শিশুকে নিয়ে যাদুকাটা নদীর খেয়া পার হয়ে বিন্নাকুলি নামক স্থানে গিয়ে কিশোরী ও তার ভাইকে রেখে যায় এবং নাইম নামের শিশুটিকে নিয়ে চলে যায়। পরে কিশোরী ও তার ভাই বাড়ীতে এসে তার মাকে বিষয়টি জানায়।
কিশোরী জানায়, অনেক দিন ধরে রাস্তা ঘাটে একা পেলেই তাকে কু প্রস্তাব দিত রিপন মিয়া। ঘটনার দিন রিপন তাকে বলে ”আমার মনের খায়েস পূরণ করছোনা না এখন দেখো কার সঙ্গে তোমাকে বিয়ে দেই” এই বলে তাকে সে অনেক মারধর করে। পরে রশি দিয়ে বেঁধে মুখে কালি লাগিয়ে মারতে মারতে বাশবাগানে নিয়ে লোকজন জড়ো করে ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে।
কিশোরীর মা বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফর চাল আনতে চলে যান। চাল নিয়ে বাড়ী ফিরতে রাত হয়ে যায়। তার স্বামী কাজের জন্য সিলেটে জাফলংয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, আমরা গরিম মানুষ, গ্রামের প্রভাবশালী রিপন মিয়া তার মেয়েকে প্রায়ই কু প্রস্তাব এবং রাস্তা ঘাটে উত্যক্ত করতো । তিনি এঘটনার সুস্থ্য বিচার দাবী করেন।
স্থানীয় রানু মেম্বার বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি সহ নোয়াজ আলী মেম্বার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মুখে কালি এবং হাত বাধা অবস্থায় দেখতে পান । পরে রিপন মিয়া তাদের জানায়, কিশোররি সঙ্গে ছেলে দেখা করতে এসে তাদের হাতে কট খাইছে। তিনি বলেন, রানা নামের ছেলেটির বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি তার পরিবারকে জানিয়ে আমরা তাদের ছেড়ে দিতে বলে চলে আসি।
রিপন মিয়া অভিযুক্তদের ফোন বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য যুক্ত করা যায় নি।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক মো. এমরান তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি জেনেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। অভিযুক্ত রিপনকে তার বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায় নি।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে আছেন তিনি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন