শান্তিগঞ্জ

তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৫ ১৮:৫১

তৃষ্ণা মেটাতে পানি পান করছেন একজন রিক্সাচালক। ছবিটি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার সেতুর উপর থেকে তোলা।-ছবি. সুখবর

ঈদের আগেও বৈরি ছিলো শান্তিগঞ্জের আবহাওয়া। ঈদ, ঈদের জামাত ও কোরবানি নিয়ে  চরম শঙ্কায় ছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু ঈদের দিন থেকে বৈরিতা কেটে রোদ্রোজ্জল আবহাওয়া দেখেছেন উপজেলার জনসাধারণ। আনন্দ এবং শঙ্কাহীনভাবে ঈদ উদযাপন করেছেন উপজেলার মানুষজন। ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত রোদের প্রখরতা ছিলো চরম তীব্র। এমন অবস্থায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অস্বস্তিতে আছেন সাধারণ মানুষ। 


এদিকে ঈদে কোরবানির গরুর মাংস খাওয়া ও গরম থাকায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। 

 

 

তিন দিনের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, সকাল থেকে প্রচণ্ড উত্তাপ নিয়ে সূর্য উঠে। সারাদিন আবহাওয়া গরম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা কাজে যেতে পারছেন না। কাজে গেলেও গরমের তীব্রতায় ঠিকঠাক মতো নিজের কাজ করতে পারেন না। বারবার হাঁপিয়ে যান। শরীর দুর্বল হয়ে আসে। তাই অনেক মানুষ ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও কাজে যেতে পারছেন না। রাস্তা-ঘাট ফাঁকা, স্বাভাবিক কার্যক্রমে এসেছে স্থবিরতা। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম অস্বস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজার, পাগলাবাজার ও আক্তাপাড়া মিনাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাজারেই লোকজনের সংখ্যা একেবারে কম। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বলতে গেলে একেবারে শূন্যের কোঠায়। পাগলাবাজার এলাকার কান্দিগাঁও জামে মসজিদের সামনে প্রতিদিন অন্তত অর্ধশতাধিক রিকশা যেখানে অপেক্ষমান থাকে যাত্রীসেবায় সেখানে রিকশার সংখ্যা পাঁচ-ছয়টি। প্রচণ্ড গরমের কারণে তারাও ট্রিপে যাচ্ছেন না। অপেক্ষায় আছেন কিছু রোদ কমার। একই অবস্থা দিনমজুরদের বেলায়ও। তারাও চাইলেই বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে পারছেন না। 

 


রিকশা চালক সুরুজ আলী, দিনমজুর লোকমান আলী ও মৎস্যজীবী আবদুল মজিদ বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। প্রতিদিন কাজে গেলে কিছু উপার্জন হলে পরিবারের জন্য খরচপাতি করি। ঈদের দিন থেকে প্রচণ্ড গরম হচ্ছে। এই গরমে কাজ করা একেবারে অসাধ্য হয়ে গেছে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। প্রচণ্ড পানি তৃষ্ণা পায়। বেশিক্ষণ কাজ করতে ইচ্ছা করে না। 

 


গরমের এমন তীব্রতায় কিছু দিক নির্দেশনা দিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ইকবাল হাসান বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষকে অন্যান্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি সচেতন থাকতে হবে। রোদে যাওয়া যাবে না। যদি যেতেই হয়, তাহলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে। গরমে গরুর মাংস কম খাওয়া উচিত। যাদের শারীরিক সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পানি বেশি বেশি পান করতে হবে। আমরা সাধারণ ২/৩ লিটার পানি পান করি। গরমে ৪/৫ লিটার পানি পান করতে হবে। নিয়মিত প্রস্রাব হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। শরীর বেশি ঘামলে গোসল করতে হবে। বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। শিশুদের আলাদা যত্ন নিতে হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার