ত্রিশ বছর পর শান্তিগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার মিছিল

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৫ ২১:০৬

সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ—৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন জামায়াত নেতা মাও. সৈয়দ সালেহ্ আহমদ।

 

২০০১ সালে চার দলীয় জোটের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচন করে জামায়াত। চারদলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সহ- সভাপতি অ্যাড. মাও. শাহীনুর পাশা চৌধুরী। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং সুনামগঞ্জ—৩ আসনে আবদুস সামাদ আজাদের নৌকা জয় লাভ করে। আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যু হলে ২০০৫ সালের জুলাই মাসের উপনির্বাচনে আবারো জোট সমর্থিত প্রার্থী হন শাহীনুর পাশা। ধানের শীষ প্রতীকে উপনির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তখন পর্যন্ত জোটে থাকায় এ আসনে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে কোনো নির্বাচন করতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী ছিলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটে। তৎকালীন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (বর্তমান শান্তিগঞ্জ) ও জগন্নাথপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ—৩ আসনে জোট সমর্থিত প্রতীক ছিলো ধানের ছিলো। ১৯৯৬ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই এ আসনে একক প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। তাই তাদের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রচার প্রচারণা বা মিছিল মিটিং খুব একটা দেখা যায়নি এই আসনে।

 


২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন থাকলেও ২০১৩ সালের ১ আগস্ট আদালতের রায়ের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছিল পতিত আওয়ামীলীগ সরকার। এরপর থেকেই দাঁড়িপাল্লা্ প্রতীক নিয়ে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। যদিও এই রায়ে সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছেন জামায়াতের অনেক নেতা। একযুগ পর সম্প্রতি নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে জামায়াত। চলতি বছরের ১ জুন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চের রায়ে পুনরায় নিবন্ধন ফিরে পায় দলটি।

 


ছাত্র—জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগের পতনের পর সারা দেশেই নতুন উদ্যোমে পথ চলতে শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে দেশের প্রতিটি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে দেশের ২৮৯টি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে জামায়াত। সুনামগঞ্জ—৩ আসনে সিলেট পেশাজীবী থানা আমীর ও সিলেট জজকোর্টের এপিপি অ্যাড. ইয়াসীন খানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। এরপর থেকেই শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর দাঁড়িপাল্লার প্রচার প্রচারণা বা মিছিল দেখছেন সাধারণ মানুষ। নতুন প্রজন্ম নতুন করে জানলেও জ্যেষ্ঠ ভোটাররা দাঁড়িপাল্লার মিছিল দেখে খুবই উচ্ছ্বসিত। নিজেদের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারণা চালাতে পেরে আনন্দিত জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীরা।

 


সিলেট মহানগর পেশাজীবী জামায়াত নেতা সাইদুল ইসলাম সাইদ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শামীম আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজস্ব প্রতীক নিয়ে এবং আমাদের দলের মনোনীত প্রার্থীকে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এজন্য প্রথমে মহান মা’বুদের দরবারে শুকরিয়া জানাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় জনাব ইয়াসীন খান ভাইকে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। মানুষ দাঁড়িপাল্লার মিছিল দেখে আনন্দিত। প্রবীণ মানুষরাও রীতিমতো আমাদের মিছিল ও প্রচারণা দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

 


ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, আমি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে ভালো লাগছে জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাঠেঘাটে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে, নিজেদের প্রতীকের মিছিল দিচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের কারণে। আমরাও চাই বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমতা ফিরে আসুক। জনগণের জন্য সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা হোক। ছোটবেলায় দেখতাম দাঁড়িপাল্লার মিছিল, মাঝখানে দীর্ঘসময় দেখা হয়নি, এখন আবার দেখছি। 

 


সুনামগঞ্জ—৩ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অ্যাড. ইয়াসীন খান বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও ভয় থেকে দীর্ঘদিন আমাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে। দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারেনি। আমরা নিজেদের জন্য রাজনীতি করি না। আমরা রাজনীতিতে এসেছি কুরআন সুন্নাহ্’র আলোকে দেশ গঠন করতে। ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠন করাই আমাদের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য। সুনামগঞ্জ—৩ আসনে কাজ করার জন্য দল থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। কাজ করে যাচ্ছি, ঈদের পরে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সালাম পৌঁছে দিতে মানুষের দোয়ারে দোয়ারে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা, দরগাপাশা, আক্তাপাড়া মিনা বাজার, পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও, খাওয়াজুড়ি, টানাখালী (রজনীগঞ্জ বাজার), লাউগাঙ, বড়মোহাসহ বেশ কিছু জায়গায় গিয়েছি। মানুষ সব দল দেখেছেন। এখন একবার জামায়াতকে দেখতে চান। পাগলা বাজারসহ আরো বাজারগুলোতে দাঁড়িপাল্লার মিছিল দেখে মানুষ উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন। আমরা দারুণভাবে আশাবাদী। শান্তিগঞ্জ- জগন্নাথপুরবাসীকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশী।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার