প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৫ ২১:৩৭
সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে অনেক কাদা পানি ভাঙতে হয়। রাস্তাটি নির্মাণ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেকবার উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে অনেক চেষ্টা তদবির করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোন প্রকার সারা না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে বাঁশ কিনে বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নে নোয়াহাট গ্রামে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলার রক্তি নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৭— ২০০৮ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর স্থান পরিবর্তন করে নোয়াহাট গ্রামের মধ্যে বিদ্যালয় কাম বন্যাশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে নতুন করে নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়টিতে প্রতি বছর বৃষ্টিপাতের দিন এলেই কাদা পানি ভেঙে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সবাই বিদ্যালয়ে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়।
বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক খগেন্দ্র চন্দ বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই কাদা পানি ভেঙে তাদের শিশুদের স্কুলে পাঠাতে হয়। বিদ্যালয়ের রাস্তাটি নির্মাণের জন্য তারা অনেকবার উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অনেক আবেদন নিদেন করেছেন কিন্তু কোন প্রকার সুফল না পেয়ে তারা নিজেরা চাঁদা তুলে ও বিদ্যালয়ের তহবিল ও অভিভাবকদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন।
আনোয়ারপুর বাজারের ছাত্র অভিভাবক ছবির হোসেন প্রশ্ন করে বলেন, এই যুগেও কি ভাবা যায় বাঁশের সাঁকো, তাও আবার তাহিরপুর উপজেলার নিকটবর্তী বালিজুরি ইউনিয়নে। যে ইউনিয়নের ফাজিলপুর নৌকাঘাটটি উপজেলা থেকে প্রতি বছর ৪ কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। উপজেলার সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয়ের উৎস বালিজুরি ইউনিয়নে।
নোয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দক্ষিণকুল প্রধান সড়ক হতে নোয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পায়ের জুতা খুলে হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়তে হয়। আর ছাত্রদের দুরাবস্থার কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। বিদ্যালয়ের রাস্তাটি নির্মাণে সরকারের অনেক জায়গায় আবেদন নিবেদন করেছি। কোন দপ্তরেই সুরাহা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের তহবিল ও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা তুলে বাঁশের সাঁকোর বানিয়েছি।
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, নোয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলাচলের রাস্তাটি নির্মাণের জন্য ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের তালিকাতে নাম দেয়া হয়েছিল। এ বছর ৪০ দিনের প্রকল্প সরকার অনুমোদন না দেয়ায় রাস্তার কাজটি করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অনুমোদন পেলেই কাজটি করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন