প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৫ ০৭:৫৭
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়
পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পর ফিরতি যাত্রায় বাস কাউন্টারে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন জেলার যাত্রীরা। সাথে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ভাড়াও। বাস না থাকার পরও যাত্রীদের কাছ থেকে কাটছেন টিকেট। এ কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও মিলছেনা বাস। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দূর দূরান্তে থেকে আসা যাত্রীরা।
ঈদের দুইদিন পর থেকেই পুরাতন বাস—স্টেশনের কাউন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মরত নানা পেশার মানুষ নিজ গন্তব্যে যেতে উপস্থিত হন। কেউ একা কেউবা পরিবার পরিজন নিয়ে।

বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় পুরাতন বাস—স্টেশনে রাশেদ পরিবহন নামের একটি কাউন্টারে অর্ধশত মানুষের ভিড় ও শোরগোল দেখা যায়। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকায় যাওয়ার জন্য ৬—৭শ’ টাকার টিকেট ৮—৯শ’ টাকায় কেটেছেন। রাত ৯ টার বাসের টিকেট কাটলেও রাত ১ টা পর্যন্ত গাড়ি আসেনি। ১ টার পর ঢাকা মেট্রো ব ১১—৮২৫৭ নম্বরের সিলেট—সুনামগঞ্জ রুটের একটি লোকাল বাসে তাদের উঠিয়ে দিতে চাইলে আপত্তি জানান তারা। ততক্ষণে গরমে ক্লান্ত হয়ে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ সড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে ব্যাগে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে যান। কোলের শিশুকে নিয়ে একাধিক মানুষ কেঁদে কেঁদে তাদের নিদারুণ কষ্ট ও প্রতারণার কথা জানান। এ নিয়ে দীর্ঘসময় বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো আবুল কালাম উপস্থিত হলে পালিয়ে যায় কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা। পরে পুলিশ ও পরিবহন নেতাদের প্রচেষ্টায় ভোর রাতে তাদেরকে ঢাকা পাঠানো হয়।
এরপর শুক্রবার ও শনিবারেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। নিয়মিত বাসের পাশাপাশি বসানো হয় অস্থায়ী একাধিক কাউন্টার। এক বাসের টিকেট দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হয় অন্য বাসে।
বাস কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা লোকজন জানান, সাধারণ দিনে আসার সময় তারা যাত্রী নিয়ে আসতে পারেন কিন্তু ঈদ যাত্রায় ফেরার সময় তাদের গাড়ি খালি আসে। তাই কিছুটা বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছেন তারা।
তাহিরপুরের শাকিল আহমেদ জানান, মাসুম ক্লাসিক নামের কাউন্টার থেকে টিকেট কেটেছি, এগুলো মৌসুমি বাস। এদের নিজস্ব কোন বাস নেই, ঈদ আসলে বাস ভাড়া করে নিয়ে আসে।
এই কাউন্টারের সামনে একাধিক যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানান যায়, অন্যান্য সময় ৬শ’—৭শ’ টাকা দিয়ে গাজিপুর যেতেন তারা। কিন্তু এই ঈদে ১ হাজারের নিচে এক টাকাও কম মানছে না কাউন্টারগুলো।
এসব বিষয় সম্পর্কে প্রশাসনের বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট ও বিআরটিএর কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মিলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সত্যতা। জরিমানা করা হয় ৬টি কাউন্টারকে। পাশাপাশি বাড়তি আদায়কৃত ভাড়া ফেরৎ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিআরটিএর পরিদর্শক রাসেল আহমেদ বলেন, আমরা ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। গাড়ির কাগজপত্র যাচাই, ফিটনেস ভাড়া নিয়েও কাজ করছি। এরপরও আজকে অভিযানে এসে বিভিন্ন অনিয়ম পেয়েছি। আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখবো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের নির্দেশে আমরা অভিযানে এসেছি। এসে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছি। একাধিক বাস কাউন্টারগুলোকে ভাড়ার তালিকা না রাখা ও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে যাত্রীদের বাড়তি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউন্টারগুলো আশ্বস্ত করেছে, তারা আর এমন কাজ করবে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন