প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:১৩
দৃষ্টিনন্দন ভবনে কেটেছে অবকাঠামোগত সংকট
পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ
একটা সময় ছিলো যখন শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো হাতেগোনা। সময়ের পরিক্রমায় ও প্রয়োজনের তাগিদে মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে বেশ কয়েকটি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই ছিলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। কোনোটিতে ছিলো টিউবওয়েলের অভাব, কোনোটিতে ল্যাট্রিন আর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ছিলো শ্রেণিকক্ষের চরম সংকট।
ডশক্ষা-দীক্ষার এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলার ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০টি বহুতল একাডেমিক ও আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে সম্প্রতি ১০টি ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বর্তমানে এসব ভবনে শ্রেণি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বাকীগুলোর কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
নির্মাণ হওয়া বা নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে ১টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ৩টি কলেজিয়েট স্কুলে ৪ টি ভবন ও ৩ টি দাখিল মাদ্রাসায় ৩টি ভবন তৈরি করা হয়েছে। ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০টি এবং ১ি ট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০টি বহুতল আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। যে ভবনগুলো এখনো নির্মাণাধীন সেগুলোর কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
চার ও পাঁচতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এমন ভবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেমন শ্রী বর্ধন করেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের বসার স্থানের সমস্যারও সমাধান হয়েছে স্থায়ীভাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বসার জন্য দেওয়া হবে অত্যাধুনিক মানের বেঞ্চ-ডেস্ক ও ফার্নিচার। এই সহযোগিতা পেয়ে খুশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ কলেজ হচ্ছে আবদুল মজিদ কলেজ। এ কলেজে একটি দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন হয়েছে। ৩ টি কলেজিয়েট স্কুলের মধ্যে পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজে ১টি চারতলা ভবন, ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১টি পাঁচতলা ভবন, পাথারিয়া ইউনিয়নের সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে একটি একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। গত মাসে এসব ভবনের উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। উপজেলার ৩টি দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসায় ১ টি ভবন (নির্মাণাধীন), দামোদরতপী দাখিল মাদ্রাসায় ২টি (নির্মাণাধীন) ও উমেদনগর দাখিল মাদ্রাসায় ১টি ভবনের উদ্বোধন হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জয়কলস উজানীগাঁও রশিদীয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, জীবদারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২টি, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, আবদুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, জিবিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি, ইশাখপুর-শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১টি ও সলফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১টিসহ মোট ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহবুব হাসান অনিক বললেন, আগে আমরা পুরোনো বিল্ডিং, টিনশেডের বিল্ডিংয়ে বসে ক্লাস করতাম। বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। নানা সমস্যা ছিলো। নতুন বিল্ডিং হওয়ায় আমাদের এই সমস্যা দূর হয়েছে। টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যাও দূর হয়েছে। এজন্য সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ রমিজ উদ্দিন বললেন, ভবন পাওয়াতে অবশ্যই আমরা অনেক খুশি। আগে টিনশেডের রুমে বসে অফিস করতাম। এখন আধুনিক বিল্ডিংয়ে বসে অফিস করছি। শিক্ষার্থীদেরও অনেক উপকার হচ্ছে। শিক্ষার সুন্দর একটা পরিবেশ এসেছে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁর জন্যই এমনটা সম্ভব হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের একান্ত রাজনৈতিক সচিব ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসনাত হোসেন বললেন, মন্ত্রী মহোদয় উন্নয়নের স্বার্থে সব সময়ই কাজ করেন। তিনি শিক্ষার ব্যপারে খুবই আন্তরিক। কর্মবীর একজন মানুষ তিনি। আমাদের উপজেলায়ই নয় কেবল, তার নির্বাচনী এলাকার অন্য উপজেলা জগন্নাথপুরেও সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন। সুযোগ পেলে আরও কাজ করবেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ এবং পরিকল্পনা মহোদয় এগুলোর উদ্বোধন করেছেন। নির্মাণাধীন বাকী ভবনগুলোর কাজও প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ। দুই-একটা ভবনের কাজে একটু দেরি হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যেই সবগুলো কাজ শেষ করা। কিন্তু ভৌগলিক সমস্যা ও পানির কারণে দুই-একটা ভবনের কাজ শেষ হতে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বেঞ্চ-ডেস্ক ও ফার্নিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ভবনের নির্মাণ বাজেটের সাথে ফার্নিচার ইনক্লুড করা আছে। আমরা দরপত্র আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি। বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবার একটি দরপত্র আহ্বানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। অনুমোদন হয়ে আসলেই দরপত্র আহ্বান করবো। এবার আশা করছি সকলেই অংশগ্রহণ করবেন। তারপরই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফার্নিচার, বেঞ্চ-ডেস্ক পাঠিয়ে দেবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন