প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:৩৪
পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করা সম্ভব নয়, কারণ তাদেরকে বেশি দামে কিনে আনতে হয়। গত বুধবার থেকে আলু বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আলু বিক্রি বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পর আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন মার্কেটের পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে গিয়ে ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আলু কিনতে পারছি না, বাজারে আলু নেই। এদিকে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করা সম্ভব নয়, কারণ তাদেরকে বেশি দামে কিনে আনতে হয়। গত বুধবার থেকে আলু বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আলু বিক্রি বন্ধ থাকবে। এদিকে আলু আমদানী বন্ধ রাখায় বাজারে আলুর সংকট তৈরি হয়েছে।
শহরের জেলরোড ও জগন্নাথ বাড়ি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আলুর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ইব্রাহিমপুর গ্রামের আলি আসকর বলেন, সারা শহর ঘুরেছি, কোনো দোকানে আলু নাই। সবজি বাজারে এক দোকান থেকে এক কেজি আলু ৭০ টাকায় কিনেছি। আমরারে নিয়া সরকার খেলা শুরু করছে। আমরার খবর নিয়া লাভ নাই।
লালপুর গ্রামের বাসিন্দা আইমনা বেগম বলেন, জেল রোড এলাকায় সব দোকানে গেছি, আলু নাই। আলু ছাড়া তো চলে না। অন্য সবজির দামও বেশি। আমরা খুব কষ্টে আছি।
জেল রোড এলাকায় একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ করেছেন। আমরা কি করব।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার হিমাগারের আলু ২৬-২৭ টাকা এবং ব্যবসায়ীদেরকে ৩৪-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হবে এমন নির্দেশনা দেয়ার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা শহরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বেশি দামে বিক্রি ও পাকা ভাউচার সংগ্রহে না রাখায় জরিমানাও করা হয়।
নতুন বাজার (আড়ৎ পট্টি) এলাকায় লেবারের কাজ করেন শ্যামল সরকার ও পিযুষ সরকার। তারা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে মালিকেরা আলু আমদানী বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা আলুর বস্তা টেনে দৈনিক ৬/৭শ’ টাকা রুজি করতাম। এখন আমরা বেকার। আমরা অনাহারে আছি।
এ বিষয়ে শহরের আড়ৎ পট্টি এলাকার পাইকারি বিক্রেতা অমৃত লাল রায় (ভীম বাবু) বলেন, ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকার। অথচ রাজশাহী থেকে আমাদের ৩৭ টাকা কেজি দরে কিনতে হয় এবং সেই সাথে ৩ টাকা আছে পরিবহন খরচ। প্রতি কেজি আলু ৪০ টাকায় পড়ে। আমরা পাইকারি ব্যবসায়ীরা এক টাকা লাভে বিক্রি করি। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যে আলু বিক্রি করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সেখান থেকে আমরা ভাউচার সংগ্রহ করেছি। কত টাকায় কিনেছি, কত টাকায় বিক্রি করছি সেসব ভাউচার ও ডকুমেন্টস দেখানো হয়েছে। এরপরও আমাদেরকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এজন্য আমরা আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। গত বুধবার থেকে আলু বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আলু বিক্রি বন্ধ থাকবে।
একইভাবে জগন্নাথ মন্দির রোড এলাকার পাইকারি বিক্রেতা সুমন মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান এবং আড়ৎ পট্টি এলাকার মখলিছুর রহমান বলেন, আলু বিক্রি বন্ধ রয়েছে। সরকারি বেঁধে দেওয়া মূল্যে বিক্রি সম্ভব হয় না। তাছাড়া ভোক্তা অধিকার আমাদের কাছে ভাউচার চান। আমরা সেখান থেকে ভাউচার পাই না। আমাদেরকে ভাউচার দিচ্ছে না। এজন্য আমরা আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা আলু বিক্রি বন্ধ রাখব।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, বাজারে আলুর সংকট হোক আমরা চাচ্ছি না। পাইকারি বিক্রেতারা বাইরের জেলা থেকে বেশি দামে আলু কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করবে- করুক। কিন্তু ভাউচার সংগ্রহ করতে হবে। ভাউচার সংগ্রহ না করলে হবে না। ভাউচার না দেখাতে পারলে আমরা কি করে বুজবো যে, তারা বেশি দামে কিনে এনেছে। আমরা চাই ডকুমেন্টস।
বাজারে আলুর সংকট বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখব কেন তারা (ব্যবসায়ীরা) আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন