মাহারাম নদী

বালু লুটে বালুখেকোরা

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৫ ০৮:৩৫

তাহিরপুরে ইজারাবিহীন মাহারাম নদীর শান্তিপুর এলাকায় বালু লুটের মহোৎসব চলছে। বেশ কয়েকদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় লাখ লাখ টাকার বালু লুটে নিচ্ছে বালুখেকো চক্র। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে মাহারাম নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এ ঘটনায় সোমবার (১৬ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে ৪টি বালিবাহী নৌকা সহ ৪ জনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আটককৃতরা হলো— উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের আছমত আলীর ছেলে রমজান আলী (৪০), একই গ্রামের ইজ্জত আলী (৪৫), আব্দুল জলিলের ছেলে আবু কালাম (৪৫) ও বাচ্চু মিয়ার ছেলে খুরশেদ আলম (২৫)। আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম।        
জানা যায়, উপজেলার মাহারাম নদীর শান্তিপুর এলাকা থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র প্রতি রাতে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলবদ্ধ হয়ে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন দিয়ে শত শত নৌকায় বালু লুট করে নিচ্ছে। এসব বালু ছোট ছোট নৌকায় করে দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কাউকান্দি, চতুর্থভুজ, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের তেলীগাঁও পাতারহাটি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে স্টক করা হচ্ছে। এরপর সুযোগ বুঝে বড় নৌকায় ভরাট করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে তারা। উত্তোলিত এসব অবৈধ বালু থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
সূত্রে জানায়, ১৯৮৮ সালের আগে পাহাড়ি নদী যাদুকাটার পানি মাহারাম নদী দিয়ে প্রবেশ করে উপজেলার বৃহৎ মাটিয়ান সহ ছোট—বড় ২৩টি হাওর তলিয়ে যেতো। তখন ফসল রক্ষায় স্থানীয়রা মাহারাম নদীতে বেড়িবাঁধ দিলেও রক্ষা করতে পারতেন না। একপর্যায়ে ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় পাহাড় থেকে নেমে আসা বালু ও নুড়িপাথরে মাহারাম নদীর উৎস মুখটি প্রাকৃতিকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। এখানে বালুর বাঁধ সৃষ্টি হওয়ায় বিগত ৩৭ বছর ধরে মাহারাম নদীতে আর বেড়ি বাঁধ দিতে হচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরে বালুখেকো চক্র মাহারাম নদীতে বালু উত্তোলন করায় এ বাঁধটি এখন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শান্তিপুর গ্রামের মোক্তার, মজিবুর ও রফিকুল বলেন,  গেল এক মাস ধরে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র ফসলি জমিসহ নদী থেকে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ নৌকায় বালু ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাসী নিষেধ করলেও তারা মানছে না।


উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে রাতে নদী থেকে বালু লুট হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন হলে মাটিয়ান হাওরসহ ভাটি অঞ্চলের ফসলি জমি আগাম পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাবে। তিনি বলেন, নদীতে বালু লুট বন্ধে থানা পুলিশকে বার বার জানালেও তারা রহস্যজনক কারনে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
চড়গাঁও গ্রামের মাওলানা আবুল কাসেম, পুরানঘাট গ্রামের মহি উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনে মাহারাম নদী থেকে কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে। বিষয়টি বার বার পুলিশকে জানালেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাহারাম নদীতে বালু লুট বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে রাতের অঁাধারে শান্তিপুর নদী থেকে বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছিলো একটি চক্র। সোমবার রাতে নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে বালু লুট বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার