ফ্রিল্যান্সিংয়ে আস্থার সঙ্কট

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৫ ০০:৪৫

সুনামগঞ্জের ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা ‘অ্যামাজন কেডিপি’ ভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। গত ২২ এপ্রিল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটিতে এ নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু জুন মাস প্রায় পেরিয়ে গেলেও, ঘটনার কোনো নিরপেক্ষ সমাধানের অগ্রগতির বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন.. শঙ্কিত জেলার ফ্রিল্যান্সাররা


অভিযোগ উঠেছিল, সুনামগঞ্জ আইটি’র পরিচালক হোসাইন আহমেদ অ্যামাজন কেডিপি প্ল্যাটফর্মে মার্কেটিং সার্ভিস দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন দেশি—বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার নিয়েছেন। ক্লায়েন্টদের দাবি, তিনি প্রকৃত সেবা না দিয়ে ভুয়া বিক্রির তথ্য দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন, যার ফলে অনেকের অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং অর্থও হারাতে হয়েছে।


ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ভারতীয় ক্লায়েন্ট সুনামগঞ্জ শহরে এসে হুসাইনের সাথে মিটিং করেন, যেখানে সিআইডি, আইনজীবী, আইটি বিশেষজ্ঞ ও অভিযোগকারী পক্ষ উপস্থিত ছিলেন। এসময় হোসাইন আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে জানায় অংশগ্রহণকারীরা। যদিও হোসাইন আহমেদ দাবি করেন, তিনি কোনো প্রতারণা করেননি এবং বিষয়টি থানায় আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে থানায় নেওয়া মুচলেকা দিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা সমাধান হয়নি। অভিযোগকারীরা এখনও তাদের অর্থ ফেরত পাননি, বরং তারা এখনো হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।


ভুক্তভোগী ভারতীয় নাগরিক দিপ কুমার নাগ বলেন, আমি বাংলাদেশের একজনকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কোর্টের মাধ্যমে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছিলাম। কিন্তু হোসাইন তাকে ভয়—ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আপোষ করে নেয়। এখন আমি অ্যাম্বাসির মাধ্যমে মামলার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি। এছাড়াও অন্যান্য যারা উনার কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে, সবাই একত্রে উনার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং তারা হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন।


ই—লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেড সুনামগঞ্জ ব্রাঞ্চের সিনিয়র প্রশিক্ষক মাঈনুল ইসলাম বলেন, ফ্রিল্যান্সিং, বর্তমান বিশ্বে একটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় নিজেদেরকে যুক্ত করে ব্যক্তিগতভাবে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে এই সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রায় কেউ যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্লায়েন্টের সাথে প্রতারণা করে, তাহলে এর ফলাফল কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের সামগ্রিক ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির ওপর, দেশের অর্থনীতিতে, এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অগ্রগতির মানকেও এটি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। তাই এ ধরণের প্রতারণার ক্ষেত্রে অভিযোগ সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।


সুনামগঞ্জের প্রবীণ ফ্রিল্যান্সার এবং আইটি উদ্যোক্তা কাজী মাহবুবুল ইসলাম বলেন, এধরণের ঘটনার চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের আস্থা হারানোর সম্ভবনা থাকে। এর প্রভাব শুধু সুনামগঞ্জ নয়, পুরো দেশের ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রির ওপর পড়তে পারে।


জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, প্রতারণা একটি ফৌজদারি অপরাধ। তাই যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের মামলা করার সুযোগ আছে। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো বিদেশি নাগরিক প্রতারিত হন, তাহলে তিনি বৈধভাবে বাংলাদেশে এসে মামলা করতে পারবেন, তাকে ভয় দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী বিদেশি নাগরিক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে তাকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার