প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৫ ০০:৩৯
তাহিরপুর উপজেলার বড়দল বাগবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের মাটিয়ান হাওরপাড়ে ১৯৮৭ সালে বড়দল বাগবাড়ি গ্রামে ‘বড়দল বাগবাড়ি রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর নামকরণ হয় ‘বড়দল বাগবাড়ি রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
২০২৩ সালে বড়দল বাগবাড়ি গ্রামের অদূরে মাটিয়ান হাওরপাড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক দ্বিতল ভবণ নির্মাণ করা হয়। নতুন ভবণ নির্মাণ করার পর থেকেই বর্ষায় ৬ মাস বিদ্যালয়ের চারপাশ পানিতে জলমগ্ন হয়ে থাকে।
এমতাবস্থায় প্রতি বছর বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে সে লক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের দ্বারস্থ হন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোন প্রকার আশ্বাস না দেয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনেকটা বাধ্য হয়েই স্লিপের ফান্ড থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন।
বড়দল বাগবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকসিতুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য তারা প্রতিবছরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের দ্বারস্থ হন। তারা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন তাদের কাছে এ ধরণের কোন ফান্ড নেই, তাই তারা বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের স্লিপের ফান্ড থেকে বাঁশের সাকো নির্মাণ করেছেন।
বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক সারোয়ার মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই তারা তাদের শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, কিভাবে তারা বিদ্যালয়ে নিরাপদে আসা যাওয়া করবে। এ অবস্থা দূরীকরণে সাঁকো নির্মাণ করে দেয়ায় প্রধান শিক্ষককে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তিনি অভিনন্দন জানান।
ছাত্র অভিভাবক সাগর মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুরা যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে যোগাযোগ করলে তারা কোন প্রকার আশ্বাস না দেয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল আহমদ বলেন, ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছিলেন একটি সাঁকো নির্মাণ করে দেয়ার জন্য। চেয়ারম্যান সাড়া না দেয়ায় আমরা গ্রামবাসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেছি।
দক্ষিল বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনূছ আলী বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেহেতু তাদের বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে সাঁকোটি নির্মাণ করে ফেলেছেন সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমি তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন