প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৫ ০০:৪৪
আব্দুজ জহুর সেতু সড়কের পূর্ব-পশ্চিম পাশের সড়ক বেহাল, ভাঙছে অ্যাপ্রোচ সড়ক
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকায় আব্দুজ জহুর সেতুর অ্যাপ্রোচের নীচের দুই পাশের দুইটি সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দিনদিন জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। উভয় পাশের সড়কে খানাখন্দ, কোথাও গর্তের মধ্যে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিঘ্ন ঘটছে যান চলাচলে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এছাড়াও সড়কে ঢাকাগামী গাড়ি পার্কিং করে রাখায় ভাঙছে সেতু সড়কের অ্যাপ্রোচ। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর।
শুক্রবার (২০ জুন) সকালে সরেজমিনে এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মল্লিকপুর আব্দুজ জহুর সেতুর নীচের দুই পাশের দুইটি সড়ক ঘেঁষা বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠেছে। সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেতু সড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে কালী মন্দির, জেলা পরিষদের মার্কেট, আইডিয়াল স্কুল সহ বিভিন্ন দোকানপাট। পশ্চিমে মল্লিকপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আছে। এছাড়াও পাশেই রয়েছে নতুন বাসস্টেশন। সড়কের দুই পাশে ঢাকাগামী বাস রাখায় ভেঙে গেছে সেতুর অ্যাপ্রোচ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে ঢাকাইয়া বাসগুলো রাখার কারণে সড়কপথে আসা—যাওয়া খুবই সমস্যা হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
মৌচাক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা, এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন আহমেদ তাহমিন মল্লিকপুর এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়েন। এই খানাখন্দভরা রাস্তা দিয়েই তাকে যাওয়া আসা করতে হয়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মল্লিকপুর এলাকায় লাইসিয়াম একাডেমিতে কোচিং করতে আসি। এই সড়কটি দিয়ে আসা যাওয়ায় খুবই কষ্ট হয়। রাস্তায় কাদা, ময়লা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধ বের হয়ে চারদিকে পরিবেশ নষ্ট করছে। আমাদেরকে নাক চেপে আসা যাওয়া করতে হয়। রাস্তাটি মেরামত করা খুবই দরকার।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজ এবং সামিরুল হক দুইজনেই কোচিং থেকে ফিরছিলেন। দেখা হলে তারা জানান, মল্লিকপুর এলাকায় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ এবং জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আমাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মল্লিকপুর এলাকার তানিশা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মো. ওলিউল্লাহ বলেন, এই সড়কপথে প্রতিদিন স্কুল—কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসা করতে হয়। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ মালামাল কিনতে আসেন। এছাড়াও এই সড়ক ঘেঁষা একটি আইডিয়াল স্কুল আছে। ছোট্ট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে। সড়কের পাশ ঘেঁষে মল্লিকপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। আছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কালী মন্দির, অসংখ্য দোকানপাট। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আব্দুজ জহুর সেতুর অ্যাপ্রোচ ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। দীর্ঘদিনের এই বেহাল অবস্থা নিরসনের দরকার। আশা করি কর্তৃপক্ষ এই সড়কপথ মেরামত করবেন এবং সেতুর অ্যাপ্রোচ সংস্কার করবেন। এটি দ্রুত সংস্কার না হলে সড়কের ভাঙন বাড়বে, সমস্যা বৃদ্ধি পাবে।
মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা, সরকারি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহদি হাসান ইমু বলেন, আমি সপ্তাহের পাঁচ দিন শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে যাই। মল্লিকপুর থেকে সড়কপথে নতুন বাস স্টেশন এলাকায় গিয়ে আমাকে বাসে উঠতে হয়। এই সড়কপথে বিভিন্ন অংশে গর্ত, জলাবদ্ধতা এবং ময়লা আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। আমাকে নাক চেপে ধরে বাস স্টেশন এলাকায় যেতে হয়, এই অবস্থা ২০২২ সালের বন্যার পর থেকেই। সড়কটি মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হয়। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার ভাঙন দেখা দেয়। এই সড়কপথে আমাদেরকে শহরে যেতে হয়। শহরে যেতে হলে দেখা যায় সড়কের উভয় পাশে ঢাকাইয়া বাসগুলো পার্কিং করে রাখা হয়েছে। গাড়িগুলো পার্কিং করে রাখার কারণে অ্যাপ্রোচ ভেঙে যাচ্ছে। এতে আব্দুজ জহুর সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও সড়কপথ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের দাবি অনতিবিলম্বে সড়কপথের সংস্কার এবং সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করলে ভালো হবে।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. হানিফ মিয়া বলেন, এনা, শ্যামলী, হানিফ, বিএম সহ বিভিন্ন নামের শতাধিক বাস আছে। এই বাসগুলো একসাথে শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় প্রবেশ করলে যানজট তৈরি হয়, জ্যাম লেগে যায়। জেলা প্রশাসক স্যার এবং এসপি স্যারের নির্দেশনায় প্রতিদিন ৫০টি বাস পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছি যাতে করে জ্যাম সৃষ্টি না হয়। বাকি বাসগুলো শহরের মল্লিকপুর নতুন বাস স্টেশন এলাকায় পার্কিং করা হয়। বাসস্টেশনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাসগুলো সড়কের দুই পাশে পার্কিং করে রাখে তারা। তবে নতুন বাস স্টেশনটি চালু করা হলে, এই সমস্যা থাকবে না।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ডা. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, আব্দুজ জহুর নীচের সড়কের দুই পাশের সড়কপথ ২০ দিনের মধ্যে সংস্কার করা হবে এবং সেতুর অ্যাপ্রোচও মেরামত করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন