প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৫ ০৮:৩১
হাওরপাড়ের শিক্ষাচিত্র
বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পারে না তাহিরপুরে হাওরপাড়ের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে অনেকেই শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে, আবার অনেক শিশু গৃহস্থালি কাজে যুক্ত হচ্ছে। এ উপজেলার অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার স্তরেই ঝরে পড়ছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৪৯ গ্রামের ১৩৪টিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অবশিষ্ট ১১৫ গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এরমধ্যে তাহিরপুর, বাদাঘাট, বালিজুরী ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ কিছুটা ভালো থাকায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
অপরদিকে শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে হেঁটে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৬ মাস যেসব গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সেসব গ্রামের শিশুরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ে। আবার হেমন্ত মৌসুমে শিশুরা বাবা—মার সঙ্গে কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়ে।
স¤প্রতি উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে মন্দিয়াতা নতুন হাটি, মুজরাই, পানিয়াখালিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে গমন উপযোগী শিশুরা খেলা করছে। একই অবস্থা রয়েছে এ ইউনিয়নের বেতাগড়া, জামালপুর, তেলিগাঁও পশ্চিমপাড়া, কৃষ্ণতলা, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে গোপালপুর, রাজধরপুর, উজ্জ্বলপুর, জগদীসপুর, সাহসপুর, নিশ্চিন্তপুর, লতিবপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, টুকেরগাঁওসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে।
রাজধরপুর গ্রামের অভিভাবক হাদিছনূও মিয়া বলেন, নিজ গ্রামে স্কুল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অন্য কোনো গ্রামের বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠানো হয় না।
শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলম বলেন, বর্ষাকালে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলো থেকে শিশু—কিশোরদের বিদ্যালয়মুখী করার জন্য বর্ষাকালে নৌকার ব্যবস্থা করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে বলেন, বর্ষাকালে তাহিরপুর উপজেলায় বিশেষ করে দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর শ্রীপুর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের যে সমস্ত গ্রামগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সে সমস্ত গ্রামের শিশুদের লেখাপড়ার বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়। হাওরপাড়ের শিশুদের এ সমস্য সমাধানে বিদ্যালয় বিহীন গ্রামগুলোতে বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, বর্ষাকালে বৈরী আবহাওয়া থাকলে এ উপজেলার এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে চাইলে বিশাল ঢেউ আর জলরাশি ভেঙে যেতে হয়। এমতাবস্থায় উপজেলার প্রতি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় থাকলে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ঝড়ে পড়ার হার কমে যেতো এবং উপস্থিতির হার বেড়ে যেতো। বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন