প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৫ ০৭:৪৩
আদায় হয় চাঁদা
সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র আলফাত উদ্দিন স্কয়ার। যাকে সবাই ট্রাফিক পয়েন্ট হিসেবে চিনে। যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে শহরের ব্যস্ততা। তাই ট্রাফিক পয়েন্টে জ্যামের চিত্র এখন নিত্যদিনের। জ্যামের মধ্যে পড়ে ভোগান্তিতে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিনই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নাগরিকরা। এই জ্যাম ও ভোগান্তির অন্যতম একটি কারণ ফুটপাত দখল। সড়কের দুপাশের ফুটপাত ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের দখলে থাকার কারণে সড়ক সরু হয়ে যায়। দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাজারে আসা মানুষের গাড়ি, মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য বাহন বাধ্য হয়ে রাস্তায় পার্কিং করতে হয়। এতে কমে যায় সড়কে চলাচলের পথ, বাড়ে জ্যাম। সম্প্রতি ফুটপাত দখল নিয়ে মারামারি করে ছুরিকাহতের পর কঠোর হয় প্রশাসন। জেলা জজের বাসভবন থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে মুক্তারপাড়া সড়ক পর্যন্ত দখলে থাকা ফুটপাত দখলমুক্ত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। খালি করা হয় ট্রাফিক পয়েন্ট চত্বরের আশপাশ। অভিযান পরিচালনা করে চলে যাওয়ার পর ফের দখলের একই চিত্র দেখা যায়। পরে আবারও অভিযান চালানো হয়। কঠোর হওয়ায় ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে জেলা জজের বাসভবন পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত এখন অনেকটাই দখলমুক্ত। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ থাকার পরও দখলমুক্ত হয়নি ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে মুক্তাপাড়া সড়কের দুইপাশ। প্রতিদিন একাধিক ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিক পয়েন্টে মোতায়েন থাকলেও তাদের সামনেই সড়কে বসে দোকান। পুলিশের সামনেই চলে সড়ক দখলের প্রতিযোগিতা। প্রশাসন সড়ককে দখলমুক্ত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও মাথা ঘামাচ্ছেন না সড়কের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশরা।
মঙ্গলবার বিকেলেও ট্রাফিক পয়েন্টে ৪ জন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিলেন। যার মধ্যে একজন টিএস আই বা ট্রাফিক সার্জেন্ট, একজন এটিএসআই, একজন কন্সটেবল ও একজন কমিউনিটি পুলিশ। ৪ জন পুলিশের সামনেই সড়কের পশ্চিম পাশের ফুটপাত দখল করে দোকান বসেছে অন্তত ১৫ টি। চতুর্দিক মিলিয়ে প্রায় ২৫ টি দোকান।

অভিযোগ আছে এসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন বৈধ দোকান ব্যবসায়ীরা। যার দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে বসে সেই ব্যবসায়ীকে প্রতিদিন দোকানভেদে একশো থেকে তিনশত টাকা দিতে হয়। তবে স্থান হারানোর ভয়ে যা স্বীকার করেননি ফুটপাত দখল করে থাকা কেউই। অভিযোগ মিথ্যা বলেছেন ব্যবসায়ীরাও। তবে ট্রাফিক বিভাগের একজন দায়িত্বশীল জানিয়েছেন ফুটপাত থেকে কিছু কিছু দোকান ব্যবসায়ীরা ভাড়া নেন এরকম অভিযোগ আমাদের কাছেও আছে। তদন্ত করে আমরা এর সত্যতাও পেয়েছি।
ড্রেনের উপরের ফুটপাত দখল করা এক চা বিক্রেতা বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট কয়দিন আইব, যতদিন আইব আউক। কতবার বাগাইয়া দিব আমরারে। বাগাইতে বাগাইতে তারাই বিরক্ত অইযিব, আমরা যাইতাম না। যত দৌড়াইতে পারে দৌড়াউক।
সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মোহাম্মদ হানিফ মিয়া বলেন, প্রশাসনের সাথে উচ্ছেদ অভিযানে আমরাও ছিলাম। আমরা ধরে নিয়ে আসি গরিব মানুষ এসে থানায় কান্নাকাটি করে। উচ্ছেদ করলে ভিডিও ধারণ করে পুলিশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে। অনেক সময় মানবিক দিক বিবেচনা করে ছাড় দেই। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের নির্দেশনা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আজ থেকে ট্রাফিক পয়েন্টের আশপাশের এলাকায় কেউ ফুটপাত দখল করে বসতে পারবে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন