প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৭
ছাতক ‘এ’ গ্রেড পৌরসভায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত সচিব। একই কর্মকর্তা একদিকে নিজ কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছাতক পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের গতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।
নাগরিকদের অভিযোগ, বর্তমানে পৌরসভার অধিকাংশ কার্যক্রমই ধীরে ধীরে অনলাইন নির্ভর হচ্ছে। জন্ম—মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং সংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, নথি অনুমোদনসহ নানা নাগরিক সেবা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে প্রয়োজন নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি। কিন্তু একই কর্মকর্তা অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় সবসময় ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। একারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কোনো একটি সেবা বা নথির জন্য পৌরসভায় এসে কর্মকর্তা না পাওয়ায় তাদের একাধিকবার ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দূর—দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
.jpg)
পৌর শহরের গনক্ষাই গ্রামের সেবাগ্রহীতা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের জন্য আবেদন করে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা—যাওয়া করতে হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর পৌরসভার সচিব অনুমোদন না দিলে আবেদনটি পৌর প্রশাসক/মেয়রের কাছে যায় না। অথচ সংশ্লিষ্ট সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় তিনি আগামী সপ্তাহে আসবেন। এরপর তাঁর অনুমোদনের পরই পৌর প্রশাসক/মেয়র আবেদনটি মঞ্জুর করলে নাগরিক সনদ পাওয়া যাবে। পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সচিব অনুমোদন দিলে আবেদনটি তাঁর কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মোবাইল থেকেই অনুমোদন করে দেবেন। অফলাইনে যেখানে আগে এক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিক সনদ পেয়েছি, সেখানে অনলাইন সেবা চালু হওয়ার পরও একদিন অপেক্ষা করেও সনদ পাইনি। জরুরি কাজও করতে পারিনি।
পৌর শহররে ভাজনামহল একালার বাসিন্দা ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি ‘এ’ গ্রেড পৌরসভা। এখানে স্থায়ী সচিব না থাকায় নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় এভাবে অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ছাতক পৌরসভার জন্য দ্রুত একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায় বলেন, আমি ২০২৪ সালের জুন মাসে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যোগদান করি। আমার বর্তমান কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। এর আগে কুলাউড়া পৌরসভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে ছাতক পৌরসভায় সপ্তাহে কোনো কোনো সময় দুই দিন এবং কোনো কোনো সপ্তাহে তিন দিনও অফিস করি। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিব নেই। এরপরও আমি চেষ্টা করি ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে। আমি যেদিন ছাতক পৌরসভায় থাকি না, সেদিন কোনো জরুরি কাজ থাকলে অফিসের কর্মচারীরা আমাকে জানালে আমি কানাইঘাট থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তবে নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে। দুইটি পৌরসভার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে আমার কোনো ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না, আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলনে, ছাতক পৌরসভা একটি বড় ও এ গ্রেডের পৌরসভা। এ হিসেবে এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। এখন পর্যন্ত পৌরসভার নাগরকি সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমার কাছে আসনি। দেশের অনকে পৌরসভাতেই বর্তমানে সচবিরে পদ শূন্য রয়ছে। নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ—পরিচালক অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন