প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৫ ০৭:০৬
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে সমালোচনা
সুনামগঞ্জ—১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের তাহিরপুর দাখিল মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসা তালাবদ্ধ রেখে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভায় শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী কলাগাঁও জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে। জেলা জামায়েতের আমীর ওই আসনের জামায়েতের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। সমাবেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাকে ভালোবেসে হাজারো মানুষ এসেছে, তারা যার যার ব্যবস্থাপনায় এসেছেন।’
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বৃহৎ বাদাঘাট বাজারে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী পথসভা ও গণসংযোগ ছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ—১ আসনের জামায়াতে ইসলামির মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান। এই সভা সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়েতের কর্মী—সমর্থকরা আসেন। উপজেলার কলাগাঁও জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বেলা ১১ টায় মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বেও কর্মী সমর্থকরা এই সমাবেশস্থলে আসেন। অভিযোগ ওঠে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে, মাদ্রাসা তালাবদ্ধ রেখে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রলারে করে বাদাঘাট বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করেন তারা (কলাগাঁও জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা)।
বিষয়টি বিকেলে জানাজানি হলে, এলাকার শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কেউ কেউ মাদ্রাসা তালাবদ্ধের ছবি ও চলমান পরীক্ষার রুটিন আপলোড করে প্রতিবাদ জানান। ওইদিন সপ্তম শ্রেণির বাংলা, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান এবং দশম শ্রেণির আরবি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা।
কলাগাঁও গ্রামের আজহার ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ছিল। মাদ্রাসার সুপার শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা না নিয়ে নির্বাচনী পথসভা যোগদান করেন। এসময় মাদ্রাসার দরজা তালাবদ্ধ রেখে যান তিনি। পরে কয়েকজন পরীক্ষার্থী তাদেরকে বিষয়টি জানালে, গ্রামবাসীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাদ্রাসায় গিয়ে এর সত্যতা পান।
জঙ্গলবাড়ীর মোর্শেদ আলম সাদ্দাম বলেন, এই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক জামায়াতের স্থানীয় আমির, তিনি হয়তোবা তার দলের কর্মসূচিতে গেছেন।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় কোনো বিষয়ে পরীক্ষা ছিল না। মাদ্রাসা সরকারিভাবে বন্ধ ছিল কী—না, এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, মাদ্রাসা বোর্ড আলাদা, বিষয়টি দেখভাল করে ম্যানেজিং কমিটি, এখানে আমাদের কিছুই বলার থাকে না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম বললেন, খোঁজ নিয়ে যাচাই করে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা জামায়েতের আমির তোফায়ের আহমদ খান বললেন, বিষয়টি আমার জানার মধ্যে নেই। বাদাঘাটের সমাবেশে আমাকে ভালোবেসে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো কর্মী—সমর্থক, সুধী শুভাকাঙ্খি এসেছেন, তারা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় সমাবেশে আসেন। কে কীভাবে এসেছেন আমার জানা নেই।’
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ—১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী সাত জন। আলাদা—আলাদা সভা সমাবেশ শো—ডাউন করছেন এঁরা। অপরদিকে, জামায়েতে ইসলামির জেলা আমিরকে ওই আসনে তাঁর সংগঠন ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি দলের একক প্রার্থী হিসেবে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুল হক, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান, সাবেক এমপি নজির হোসেনের পত্নী সালমা নজির, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দী লিটন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন সভা—সমাবেশ প্রচারণা চালাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন