প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৫ ২২:৫৬
মাত্র দুই শিক্ষকে চলবে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুণগত শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়বে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সকালে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক রুপেশ দাশ বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক (বিডিবি) ব্যাংকে যোগদানের জন্য চলে যাবেন কৃষি শিক্ষার শিক্ষক তপু বিশ্বাসও।
পরবর্তীতে দুই শিক্ষকে চলবে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান। দুই শিক্ষক হলেন— ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক জামাল উদ্দিন এবং সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক এ এইচ এম লিয়াকত। ৯টি পদের মধ্যে শূন্য পদগুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ইসলাম, শারীরিক শিক্ষা, শূন্য হবে কৃষি শিক্ষা এবং বিএড প্রশিক্ষণে আছেন জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম।
প্রধান শিক্ষকের পদ জাতীয়করণের পর থেকেই শূন্য। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে কর্মরত আছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক ফয়যুল হুসাইন। একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিতের পথে।
তাহিরপুর উপজেলা সদরে ১৯৫০ সালে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক এবং ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরে ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়কণের আগে বিদ্যালয়টিতে ১৩ জন শিক্ষক ও ৫০০ ছাত্রছাত্রী ছিল। তবে জাতীয়করণের পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট শুরু হয়। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের তিন যুগ পরও পূরণ হয়নি প্রধান শিক্ষকের পদ।
তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে অনুমোদিত একজন অফিস সহকারী, একজন অফিস সহায়কের পদও শূন্য।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মুবিন জানায়, তাদের এসএসসি পরীক্ষা আসন্ন, কিন্তু গণিত শিক্ষক না থাকায় এই বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে বাইরের শিক্ষক বা কলেজ পডুয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণিত শিখছে। স্কুলে শিক্ষকের কাছ থেকে শিখতে না পারায় অনেকের গণিত ভীতি কাটছে না। পরীক্ষার আগে অনেকের সিলেবাস সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পায়েল দাস জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কোনো ক্লাস নেওয়া হয় না।
তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়যুল হুসাইন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানানো হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, সরকারি এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক পোস্টিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এসময় তিনি জানান, কিছুদিন আগে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে শিক্ষার মানোউন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিয় সভায় তিনি জেলার বিভিন্ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন