গরিবের ভিজিডি চাল মেম্বারের পেটে

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৫ ২৩:৪০

তাহিরপুরে এক ওয়ার্ড সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি ভিজিডির চাল আত্মাসাত ও সুবিধাভোগী দুই  নারীকে হুমকি এবং মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত ৮ ও ৯ জুলাই ভুক্তভোগী মোছা. রেহেনা বেগম ও মোছা. কমলা বেগম নামে দুই অসহায় নারী তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসহায় নারীর নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) কার্ডের চাল আত্মসাৎ করে আসছেন। তার ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী নারীরা কার্ডধারী হলেও তারা সরকারি ভিজিডি চাল পাচ্ছেন না। তাদের কার্ডের নামিয় গরিবের চাল যাচ্ছে আবু মেম্বারের পেটে। কার্ডধারী ভুক্তভোগী নারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের দেওয়া হয় মামলা — হামলার হুমকি।
ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বলেন, ২০২৩—২০২৪ অর্থবছরে তার নামে বরাদ্দ পাওয়া ভিডব্লিউবি কার্ড (নং—০৪৮) ব্যবহার করে তিনি মার্চ ও এপ্রিল মাসের চাল উত্তোলন করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারেন তার কার্ডটি ইউপি সদস্য আবু মেম্বারে কাছে রয়েছে। কার্ড হাতে পাওয়ার পর রেহেনা বেগম দেখতে পান তার নামে অতিরিক্ত দুই মাসের চাল উত্তোলন করা হয়েছে, যা তিনি নিজে গ্রহণ করেননি। পরে বিষয়টি আবু মেম্বারকে জানালে তিনি তালবাহানা করেন তার সঙ্গে। তিনি বলেন শুধু তার সঙ্গে নয়, এমন প্রতারণা ভিজিডি কার্ডধারী আরও কয়েক নারীর সঙ্গে  আবু মেম্বার করেছেন।
অপর ভুক্তভোগী কমলা বেগম বলেন, আমার কার্ডটিও আবু মেম্বারের কাছে ছিল। ফেরত পাওয়ার পর দেখেন এ কার্ড দিয়ে  অতিরিক্ত চাল তোলা হয়েছে। চাল কোথায় গেছে  জিজ্ঞেস করলে আবু মেম্বার তার সঙ্গে  নানা তালবাহানা করেন। একপর্যায়ে তাকে হুমকি ও গালমন্দ করে বলা হয় এ কথা যেনো কারো কাছে না বলেন তিনি। বল্লে তার কার্ড বাতিল করে দিবেন তিনি।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.আলম মিয়া বলেন, ভিজিডি কার্ডধারী ভুক্তভোগী দুই নারী ইউনিয়ন পরিষদে এসে জানিয়েছেন, তাদের কার্ডের বরাদ্দকৃত চাল আবু মেম্বার তুলে নিয়ে শুধু কার্ড তাদের ফেরত দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি সহ ইউনিয়ন পরিষদের অপর ওয়ার্ড সদস্য জুয়েল মিয়া ও সামুয়ূন মিয়া আবু মেম্বারকে বেলেছে তাদের চাউল ফেরত দিয়ে দুই নারীর সঙ্গে সমাধান করে নিতো, কিন্তু সে তা করেনি।
অভিযুক্ত আবু মেম্বার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,  চাল তিনি আত্মসাৎ করেননি,তাদের চাল তারাই টিপ সই দিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, দুই নারীর ভিজিডি কার্ড তার কাছে ছিল,পরে তাদের ফেরত দিয়েছেন তিনি। তাদের কার্ড আপনার কাছে কেন ছিল জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেন নি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, এ বিষয়ে পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি তদন্তের জন্য সমাজসেবা মহিলা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার