প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৫ ২৩:৫১
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এসএসসিতে পাস করেছে মোট পরীক্ষার্থীর ৭৭.৮০ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় বেশি হলেও ফলাফলে খুশি নন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, আরও ভালো করার সুযোগ আছে। মাদ্রাসায় দাখিলে পাস করেছে ৬০.৬৯ শতাংশ। এই উপজেলায় মাদ্রাসায় গত বছরের তুলনায় কম শিক্ষার্থী পাস করেছে এবার। গত বছর দাখিলে শিক্ষার্থীর পাশের হার ছিলো ৬৭.৫৩ শতাংশ।
উপজেলায় ১৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩৫৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ২২ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৩১ জন শিক্ষার্থী। ৫ প্রতিষ্ঠানের ৮জন শিক্ষার্থী জিপিএ—৫ অর্জন করতে পেরেছেন। সাতগাঁও জীবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয় সর্বোচ্চ ৩টি, পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ ২টি, সুরমা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও গাগলী নারায়নপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি করে জিপিএ—৫ পেয়েছে। উপজেলায় ৯১.৮৯ শতাংশ ফলাফল অর্জন করে শীর্ষস্থানে আছে সাতগাঁও জীবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। ৮৯.০৬ শতাংশ ফল অর্জন করে দ্বিতীয় স্থানে গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও ৮৮.২৪ শতাংশ ফলাফল অর্জন করে তৃতীয় স্থানে পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। সর্বনিম্ন ফলাফল করে তালিকার নিচে রয়েছে সুরমা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, পাথারিয়া, তাদের পাশের হার ৫৯.০৬ শতাংশ।
এদিকে ৭ মাদ্রাসায় দাখিলের মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ২৭৭ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১৬৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর ১টি জিপিএ—৫ অর্জন করলেও এবছর কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ—৫ পায়নি।
আক্তাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় ফাজিল তৃতীয় বর্ষে লেখাপড়া করছেন আফসার আহমদ। তিনি বলেন, আগের মতো শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে না। অভিভাবকেরাও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে সচেতন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকরা খুব বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়াচ্ছেন না। কোনো একক কারণে নয়, বহুবিদ কারণে ফলাফলের এমন বিপর্যয় হচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষায় প্রশাসনের নজরদারিও কম বলে আমরা মনে করি।
খোরশেদা বেগম নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে পাস করেছে কিন্তু ভালো পয়েন্ট অর্জন করেনি। এখন একটি ভালো কলেজ পাবে কি না সন্দেহ আছে। ছেলে—মেয়েরা ঠিকমতো লেখাপড়া করে না। অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল আসক্তির কারণে এক মাসে একদিনও পড়ার টেবিলে বসেন না। আমাদের সবাইকে শিক্ষার্থীদের পেছনে শ্রম দিতে হবে। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকরা তাদের বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হলে এমন ফলাফল হতো না। উপজেলা প্রশাসন শিক্ষার ব্যাপারে আরও বেশি তৎপর হওয়া দরকার।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, সারা দেশের তুলনায় এবং পিছিয়ে পড়া একটি উপজেলার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এবং গত বছরের সাথে তুলনা করলেও আমরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছি। জিপিএ—৫ পেয়েছে ৮ জন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ আছে, আমরা সেদিকে নজর দিয়েই আমরা কাজ করবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন