প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৫ ২২:২৬
অন্যের জমিতে দৈনিক হাজিরায় কৃষিকাজ ও টিউশনি করে জিপিএ-৫ পেয়েছে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অলিদ হাসান। ২০২১ সালে অলিদ হাসানের পিতা আবুল আজাদ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মাতা মেহের আক্তার একজন গৃহিণী। তিনিও রোগে ভুগছেন, ডাক্তার বলছে অপারেশন করতে হবে। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। অলিদ হাসানের বড় ভাই নাহিদ হাসান সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে গণিতে অনার্স পড়ে। বর্তমানে তারা দুই ভাইয়ের টিউশনির টাকাতেই সংসার চলে। তাদের একমাত্র ছোট বোন তাসপিয়া আক্তার অনি তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে সূর্য্যেেরগাঁও গ্রামে তাদের একটি বসতভিটা আছে, কিন্তু ঘর নেই। বর্তমানে ঠাকুহাটি গ্রামে ভাড়া বাড়িতে থাকে তারা।
তাহিরপুর উপজেলাতে এ বছর ২৪ জন ছাত্রছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে অলিদ হাসান তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নম্বর ১১৭৭ পেয়ে উপজেলার মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অলিদ হাসান উচ্চ মাধ্যমিকে কিভাবে লেখাপড়া করবে, সে নিয়ে পরিবার রয়েছে দুশ্চিন্তায়।
তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবুল হাসনাত লিয়াকত বলেন, অলিদ হাসান তার বড় ভাই নাহিদ হাসান, তাদের ছোট বোন তাসপিয়া আক্তার অনি সবাই মেধাবী ছাত্র। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অলিদ হাসান এসএসসি ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিতে পারে নি। আমরা স্টাফ মিটিং করে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছি। তার বড় ভাই নাহিদ হাসান ভালো ছাত্র ছিল। নাহিদ হাসানই অলিদ হাসানকে পড়িয়েছে।
তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঠাকুরহাটি গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আহমদ তৌফিক বললেন, আমার জীবনে অনেক ছাত্র দেখেছি, কিন্তু অলিদ হাসানের মতো অদম্য মেধাবী ছাত্র কখনো দেখিনি। বোর মৌসুমে সারাদিন অন্যের জমিতে দৈনিক হাজিরায় কাজ শেষে লেখাপড়া করেছে, কখনো টিউসনি করেছে। অথচ তার চেহারা দেখলে বুঝাই যাবে না সে এতো কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়া করে।
অলিদ হাসানের বড় ভাই নাহিদ হাসান জানায়, বর্তমানে তারা দু’ভাইয়ের টিউশনির টাকায় পরিবারের যাবতীয় খরচ ও তাদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে অনেক কষ্ট হয়।
অলিদ হাসান জানায়, চিকিৎসার অভাবে তার পিতা মারা যান, তাই লেখাপড়া করে সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়।
অলিদ হাসানের মাতা মেহের আক্তার বলেন, স্বামী মারা যাওয়া পর বসতঘরটি মেরামত করতে না পারায় মাটিতে ধ্বসে পড়ে। পরবর্তীতে ঠাকুরহাটি গ্রামে তিন হাজার টাকা মাসে দিয়ে একটি বাসা নিয়েছি। ওখানেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসবাস করে আসছি। বর্তমানে ছেলেদের টিউশনির টাকাতেই কোন রকম সংসার চলে। ছেলে অলিদ হাসানের কলেজের লেখাপড়া নিয়ে খুবই দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন