প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৫ ২৩:৪১
হাজী এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়
তাহিরপুরের হাজী এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে নামছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক উপরিচালক একেএম আব্দুল্লাহ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রেরিত এক পত্র মারফত জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার হাজী মোহাম্মদ আবু জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১৬ জুলাই বুধবার বেলা ১১টায় সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর হাজী এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে রেজাল্টশিটে স্বাক্ষর করেননি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরে তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আটকে রেখেছিল স্থানীয় একদল যুবক। এরপর ইউএনও’র সহযোগিতায় সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর তৎকালীন ইউএনওর মৌখিক নির্দেশে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখে পরিচালনা কমিটি।
এদিকে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার পরও চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ইমাদ আলী নামে এক ব্যক্তি হাজী এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন। তবে তিনি কিভাবে সে পদে যোগ দিলেন, আর কারা তাঁকে এর অনুমতি দিয়েছে— এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি।
তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান (বর্তমান কর্মস্থল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, হালুয়াঘাট ময়মনসিংহ) জানান, নিয়োগ কমিটিতে তিনি ছিলেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তিনি সে সময় রেজাল্টশিটে স্বাক্ষর করেননি। পরে সে পদে কাউকে নিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে। বিষয়টি তদন্ত করলেই মূল তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।
তিনি আরও জানান, নিয়োগ পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র তৈরি পর্যন্ত সঠিক ছিল, পরে যা হয়েছে সম্পূর্ণ অনিয়ম। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ডিজির প্রতিনিধিও অনুপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক উপরিচালক একেএম আব্দুল্লাহ বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার তিনি সরজমিন তদন্তে আসবেন বলে জানান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন