প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৫ ২১:১৩
পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের ১৯৯৫ সালের এসএসসি ব্যাচ বনাম ১৯৯৭ সালের এসএসসি ব্যাচের ফুটবল প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ২১ জুন শুরু হয় প্রীতি ফুটবল খেলা। প্রফেশনাল খেলোয়ারদের মতো ভালো খেলা না হলেও ম্যাচে আনন্দের আমেজ ছিলো লক্ষণীয়।
খেলাকে উপলক্ষ্য করে দুই ব্যাচের পুরোনো সব বন্ধুরা একত্রিত হয়েছিলেন পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে (পুরোনো নাম)। আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন অনেকে। তাদের দেখে প্রস্তুত হয় ২০১০ ও ২০১২ সালের এসএসসি ব্যাচ। সামাজিক যোগাযোগ ভিত্তিক প্রচারণা আর খেলার প্রস্তুতির খবরে ১১ জুলাই শুক্রবার বিকালে ঐতিহ্যবাহী পাগলা স্কুলের মাঠে দর্শকদের ঢল নামে। খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দেখার মতো। ২০১০ সাল ২—১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধ করে সমতায় ফিরে ব্যাচ ২০১২। ২—২ সমতায় খেলা শেষ হওয়ার পর ২০১০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলে নৈশ্যভোজের আয়োজন করে। পুরো আয়োজন ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এলাকায় সব ব্যাচের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় মূলত এই খেলার আয়োজনের পর থেকেই। তারা পারলে আমরা নয় কেনো? এই ভাবনা থেকে শুক্রবার (১৮ জুলাই) মাঠে নামে ২০১৭ ও ২০১৮ ব্যাচ। একই দিনে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ ব্যাচ। প্রস্তুতি চলছে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ব্যাচ এবং ২০০৪ ও ২০০৮ সালের ব্যাচের মধ্যে। আগামী শুক্রবার বা অন্য কোনো একদিন অনুষ্ঠিত হবে তাদের মধ্যে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ব্যাচ ভিত্তিক এই খেলায় মাঠে অনেক দর্শকও উপস্থিত থাকেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই খেলায় আনন্দ আছে ঠিক কিন্তু প্রতিযোগিতা তেমন হচ্ছে না। আমরা আনন্দেও পাশাপাশি একটু প্রতিযোগিতাও দেখতে চাই। যদি ব্যাচ ভিত্তিক একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা যেতো তাহলে হয়তো একটি দারুণ কোনো কিছু হতো। যদিও এখানে অনেকে প্রফেশনাল না তবু টুর্নামেন্টকে ঘিরে অনেকে আবার মাঠে ফিরে আসতে পারতেন।
১৯৯৫ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ফার্মাসিস্ট রঞ্জিত সূত্রধর, ১৯৯৭ সালের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, আমরা প্রথমে আনন্দের জন্য এই খেলার আয়োজন করেছিলাম। আমরা খুব মজা করেছি। আমাদের দেখে পরবর্তীতে অনেকে খেলছেন দেখে আমাদের খুব ভালো লাগছে। আগামী বছর সকল ব্যাচকে নিয়ে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায় কি না সে বিষয়ে সকলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, আমরা কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের মাঠে ব্যাচ ভিত্তিক ফুটবল প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীতেও হবে শুনেছি। এটি এই মুহুর্তে অনেকগুলো ভালো খবরের মধ্যে একটি। খেলাধুলা মানুষকে মাদক ও নানান অপকর্ম থেকে রক্ষা করে। লোকজন মাঠে ফিরছেন, খেলতে চাচ্ছেন, খেলাধুলা সব সময়ই ভালো। স্থানীয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যদি ব্যাচ ভিত্তিক কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে শুভকামনা থাকবে, যতটুকু সহযোগিতা করা যায় ততটুকু করবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন