ফের ভাড়াটিয়ার সাথে মালিকের অমানবিক কাণ্ড

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৫ ২০:৫৯

নবজাতক ও দুই সন্তানসহ স্বামী স্ত্রীকে ঘরে রেখে তালা, ৯৯৯ কল পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

ঘরের বাইরে থেকে তালা। ভেতরে নবজাতক এক শিশুসহ ৩ সন্তান এবং স্বামী স্ত্রী বন্দি। জুন মাসের বাসা ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় ৭ বছরের এক ছেলেকে ঘরের বাইরে এবং নবজাতক শিশুসহ ৩ সন্তানকে ভেতরে রেখে দরজায় তালা দিয়েছেন বাসার মালিক। 


শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার শ্যামলী ১ নম্বর জনর ভিলায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক জামালগঞ্জ উপজেলার চেলাইয়া মামদপুর এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন। গেল ৭ মাস ধরে মতিউর রহমানের বাসায় মাসিক ৫ হাজার টাকা হারে বাসা ভাড়া দিয়ে বসবাস করছেন তিনি। 

 

আরও পড়ুন: বাসা ভাড়া দিতে বিলম্ব, বাইরে থেকে দরজায় তালা দিলো মালিক

 


ইকবাল বলেন, নিয়মিত বাসাভাড়া পরিশোধ করলেও অসুস্থতার কারণে গাড়ি চালাতে পারিনি। তাই চলতি মাসের বাসা ভাড়া ৫ তারিখের ভেতর দেয়ার কথা থাকলেও দিতে পারিনি। এজন্য বাসার মালিককে বলেছিলাম আগামী মাসে একসাথে দিয়ে দেব। তিনি এটা মানেন নি, সেজন্য আমাদেরকে ঘরের ভেতরে রেখেই বাইরে তালা মেরে চলে গেছেন। 

 

তার স্ত্রী বলেন, আমার ৬ মাসের এক মেয়েসহ ৪ সন্তান। তিন জন ঘরের ভিতরে আর এক ছেলে বাইরে। ঘরে ঢুকতে না পারায় ৮ বছরের ছেলে বেলা সাড়ে ৩টা বেজে গেলেও দুপুরের খাবার খেতে পারেনি। বাইরে ছটফট করছে সে, আর ভেতরে আমরা ৫ জন।  এমন অবস্থায় যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটতো আমাদের বাইরে যাওয়ার উপায় ছিল না। 

এমন অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়ে অন্যত্র চলে যান বাসার মালিক মতিউর রহমান। তালাবদ্ধ ঘর দেখে প্রতিবেশী রাব্বি নামের ব্যক্তি ফোন দিলে তার সাথেও খারাপ আচরণ করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিবেশীরা। 

রাব্বী বলেন, মাত্র এক মাসের ভাড়ার জন্য এভাবে ঘরের ভেতরে রেখে দরজা তালা লাগানো ঠিক হয়েছে কিনা ফোন করে জানতে চাই। তিনি উত্তর দেন, নীতি নৈতিকতার বাণী না দিয়ে আমি উনাকে ভাড়া পরিশোধ করে দিলেই উনি দরজা খুলে দিবেন। তারপর আমি ভাড়া দিবো বলে উনাকে বাড়িতে আনি। 
পাশের ঘরের আরেক ভাড়াটিয়া বলেন, আমিও এই বাড়ির ভাড়াটিয়া। আমারও নানা কারণে এক মাস দেরি হতেই পারে তাই বলে কি ভেতরে মানুষ রেখে বাইরে তালা দেবে। এটা ভালো কাজ হতে পারে না। 

খবর পেয়ে ইকবাল হোসেনের ভাই সাগর মিয়া আসেন ঘটনাস্থলে। তিনি বলেন, আমি ফোনে খবর পেয়ে আমার মাকে নিয়ে এসেছি। এসে দেখি তালা মারা বাইরে থেকে। এখন যদি ভেতরে কোন দুর্ঘটনা ঘটে এই দায়ভার বাসার মালিককে নিতে হবে। একমাসের ভাড়ার জন্য এতো জঘন্য কাজ করতে পারে না। 


স্থানীয় কনক মাস্টার বলেন, এভাবে ভেতরে রেখে বাইরে তালা মেরে বন্দি করে রাখা স্পষ্ট অন্যায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। এরকম অন্যায়ের শাস্তি না হলে এসব গুরুতর অপরাধ বাড়তে থাকবে। 


অভিযুক্ত বাড়ি মালিক মতিউর রহমান বলেন, এরা প্রত্যেক মাসে ভাড়া দিতে দেরি করে। মাস পেরিয়ে দুইমাস হয়ে গেলেও তাদেরকে খুঁজেই পাই না। তাই তালা মেরে রেখে খেতে গিয়েছিলাম, তবে এটা আমার ভুল হয়েছে।

 

তালাবদ্ধ হয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগীরা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে পরিবারটিকে উদ্ধার করে। সুনামগঞ্জ সদর থানার এএস আই গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা ৯৯৯ এ খবর পাই একটি পরিবারকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা এসে মালিকের মাধ্যমে তালা খুলে পরিবারকে উদ্ধার করি। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অবিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই বাসা ভাড়া দিতে মাত্র তিনদিন বিলম্ব হওয়ায় শহরের রায়পাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়াকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিন আরেকজন বাসার মালিক।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার