সিঙ্গারা পেঁয়াজু বিক্রি করে মাসে আয় অর্ধলক্ষ টাকা

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৫ ২১:৩৮

সিঙ্গারা আর পেঁয়াজু, এই দুই জনপ্রিয় ভাজা খাবার পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। মুখরোচক এই খাবার বিক্রি করে মাসে অর্ধলক্ষ টাকা আয় করছেন ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী কামাল মিয়া। জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও রিভার ভিউ পার্কের পাশেই তার দোকান।


জানা যায়, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে কামাল মিয়ার দোকানে সিঙ্গারা আর পেঁয়াজু বিক্রি। প্রতিদিন বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে তার আয় হয় ৫০ হাজার টাকা।  


মো. কামাল মিয়া (৫০) উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে তিনি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছিলেন। ২০২২ সালে জীবিকার সন্ধানে কারেন্টের বাজার সিঙ্গারা—পেঁয়াজু বিক্রি করতেন। সেখানে দোকানে ভালো বিক্রি না হওয়ায় চলে আসেন জামালগঞ্জে। দোকান ভাড়া কারেন্ট বিলসহ ১৪ হাজার এবং ছয় হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু করেন সিঙ্গারা ও পেঁয়াজুর ব্যবসা। তার জীবনে অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দিয়েছে এই ব্যবসা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারাদিনই ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। কেউ বেঞ্চে বসে খাচ্ছেন, কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ প্যাকেটে করে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য। স্থানীয়রা জানান, কামালের দোকানে কোন ভেজাল নেই। প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই বিক্রি হয়। তার সিঙ্গারা—পেঁয়াজু কেবল সুস্বাদু নয় স্বাস্থ্যসম্মতও। 


তেলিয়া গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা মামুন বলেন, আমি কাজ শেষে প্রতিদিনই এখানে সিঙ্গারা খেতে আসি। কামালের মতো সিঙ্গারা আর কেউ বানাতে পারে না।
জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়েম আহমেদ বলেন, আমি প্রতিদিন স্কুলের হাফ টাইমে এখানে এসে সিঙ্গারা খাই। প্রতিপিস ১০ টাকা। একটা সিঙ্গারা খেলে পেট ভরে যায়। এই দোকানের সিঙ্গারা অনেক সুস্বাদু। হাফ টাইমে শত শত ছেলেরা এই দোকানের সিঙ্গারা—পেঁয়াজু খায়।

 


কামাল মিয়া জানান, আগে কারেন্টের বাজারে দোকানে বেশী বিক্রি হতো না। যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল। এখন সিঙ্গারা—পেঁয়াজু বিক্রি করে ভালোই লাভ হচ্ছে। এক ছেলেকে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজে পড়াচ্ছি। আর এক ছেলে দোকানে আমার সাথে কাজ করে। মেয়েকেও লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। আল্লাহর রহমাতে এই ব্যবসা আমাকে সফলতা এনে দিয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, দোকান ও বাসা ভাড়ায় আসে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা। তার পরেও মাসে আয় ৫০ হাজার টাকার উপরে থাকে। এতেই আমি খুশী।


জামালগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান জানান, কামাল মিয়ার দোকানে স্কুলের শিক্ষার্থী ও পার্কে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে,  সিঙ্গারা— পেঁয়াজুও খুবই সুস্বাদু। আমি তার ব্যবসার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও উন্নতি কামনা করি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার