‘পাথর-বালুমহালে নজিরবিহীন অনাচার চলছে’

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৫ ২২:২২

সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘতম সেতু ধলাই। এ সেতুর আশপাশ থেকে বালু ও পাথর আহরণের নামে গত এক বছর ধরে নজিরবিহীন অন্যায়—অনাচার চলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের ‘সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার’ ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)। সেই সব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংগঠনের সংগঠক আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেছেন, ‘নদী থেকে বালু ও পাথর আহরণের নামে বিগত এক বছর ধরে নজিরবিহীন অন্যায়—অনাচার চলছে। আইন—কানুনের কোনো তোয়াক্কা নেই। বালু—পাথর লুট করতে করতে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, নিজের পায়ে কুড়াল মেরে ধলাই সেতু ধ্বসের আয়োজন চলছে। অবিলম্বে বালুখেকোদের হাত থেকে ধলাই সেতু রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া না হলে, বালুসন্ত্রাসে ধলাই সেতু ধ্বংস হলে স্থানীয় প্রশাসন দায়ী হবে। রাষ্টীয়সম্পদ রক্ষা করতে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।’

 

 


শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে সিলেটের অন্যতম সীমান্ত নদ ধলাইয় সেতুর নিচে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ ও মানববন্ধনে আব্দুল করিম চৌধুরী কিম এসব কথা বলেন। বালু খেকোদের হাত থেকে ধলাই সেতু রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখা ও আন্তর্জাতিক পানি ও নদী অধিকারবিষয়ক সংগঠন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার—এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। এতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। ধলাই সেতুর পূর্বপাড়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসুচি থেকে বালু লুটতরাজ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে শেষবারের মতো সতর্ক করে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সেতু রক্ষার দাবিতে ব্যানার—ফ্যাস্টুনসহ মানববন্ধনে একাত্ম হয়। 

 


কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, ২০০৫ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্তের ধলাই সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুটি উদ্বোধন করেন। কোম্পানীগঞ্জ  উপজেলা  সদরের  সঙ্গে  ভারত  সীমান্তঘেঁষা তিনটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে ধলাই সেতু। সিলেটের অন্যতম পর্যটন এলাকা উৎমাছড়ায় যাতায়াতের মাধ্যম এই সেতু। 
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের শিথিলতায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদে শুরু হয় নির্বিচারে বালু ও পাথর লুট। 

 

 


মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে বলা হয়, বালুখেকোরা প্রশাসনিক কোনো বাধা না পাওয়ায় এতোই বেপরোয়া হয় যে, ধলাই সেতুর নিচ থেকে বালি উত্তোলন করা শুরু করে। বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার পক্ষ থেকে এই বালু লূটতরাজ বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তবুও বন্ধ হয়নি বালুখেকোদের বেপরোয়া বালু উত্তোলন। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ধলাই সেতু যে কোনো সময়ে ধ্বসে যেতে পারে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের পাশাপাশি ওই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটবে। 

 


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক নিজাম উদ্দিন মাস্টারের সঞ্চালনায় সমাবেশ হয়। এতে সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য দেন ‘সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার’ ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) সংগঠনের সংগঠক আব্দুল করিম চৌধুরী কিম। সমাবেশে ধরা সিলেটের সংগঠক ও ধলাইতীরের বাসিন্দা ফয়জুর রহমান, ধরার সংগঠক ও আইনজীবী অরুপ শ্যাম বাপ্পী, সোহাগ তাজুল আমিন, নাট্যকর্মী আহমেদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 


সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ধলাই সেতুর নিচে বালু লুটতরাজ বন্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০, পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০, ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০, সন্ত্রাসবিরোধী আইন বা বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের অবকাশ রয়েছে। এসব আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নিলে জনগণ এসব আইনের আওতায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। 
 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার