প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৫ ২২:৫২
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি বাজারে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাম্য ভাষায় হা ডু ডু নামেই পরিচিত এই খেলা দেখতে নেমেছিলো মানুষের ঢল।
চিকারকান্দির আতঙ্ক, বাপ—পুতের টিম, তুফান, মায়ের দোয়া, এলিভেন ব্রাদার্স, চাচা—ভাতিজার টিম বা মোল্লারপাড়ার যুব ওয়ান্ডার্স, জসিম রাজা দুর্লভপুর ও রতনপুর টাইগার্স— ইত্যাদি বাহারি নামের দল খেলায় অংশগ্রহণ করে। ৬ জন সদস্য নিয়ে প্রতিটি টিম গঠন করা হয়।
সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুরে মধ্য বিরতি দিয়ে খেলা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। খেলায় অংশ নিয়েছেন স্বাগতিক পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লারপাড়া ইউনিয়নের ৭০টি দলের ৪২০ জন খেলোয়ার। দর্শনার্থী ছিলেন হাজার হাজার। দর্শক সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হয়েছে আয়োজক কমিটিকে।
প্রীতি খেলাটি আয়োজন করেন চিকারকান্দি গ্রামবাসী। বিজয়ীদের জন্য নেই কোনো আলাদা পুরষ্কার, নেই টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতা। তবে খেলায় খেলোয়ারদের পেশাদারিত্ব ছিলো চোখে পড়ার মতো। নজড়কাড়া পারফরম্যান্স দ্বারা উৎসুক দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন খেলায়াড়রা। আনন্দ আয়োজনে কোনো কমতি ছিলো না আয়োজকবৃন্দ ও আগত খেলোয়ারদের মাঝে। আনন্দ উদযাপন করতে মাঠে একাধিক দলের পক্ষে ব্যান্ড পার্টি উপস্থিত ছিলো। খেলা শেষ হওয়ার পরও রেশ রয়ে গিয়েছিলো দর্শকদের মাঝে। ব্যান্ড পার্টিকে নিয়ে হয়েছে আনন্দ মিছিল। এক কথায় ক্ষণিকের জন্য হলেও চিকারকান্দি বাজারে যেনো বয়েছিলো আনন্দের ফোয়ারা। খেলা দেখায় ব্যাপক আগ্রহ ছিলো দর্শকদের। হঠাৎ করে খেলা শেষ হওয়ায় আরো কিছু খেলা কেনো দেওয়া হলো না তা নিয়ে অনেকে চিৎকার—চেঁচামেছি করতে দেখা গেছে দর্শকদের। দর্শক উপস্থিতি আর খেলা দেখার আকর্ষণই প্রমাণ করেছে কাবাডি খেলা নিয়ে প্রতি গ্রামীণ মানুষের মধ্যে কেমন উন্মাদনা রয়েছে।
কাবাডি খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ—৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কয়ছর এম আহমদ। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, ফারুক আহমদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম—আহ্বায়ক রওশন খান সাগর, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন, যুক্তরাজ্য যুবদলের সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক আলিফ মিয়া, পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম—আহ্বায়ক আবুল কাশেম নাইম, সদস্য মহির উদ্দিন, মোশাহিদ আহমদ, অজিত দাশ, জিয়াউল হক, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি নেতা আবদুস সোবহান, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা ইলিয়াছ মিয়া, সিরাজ মিয়া, আওলাদ হোসেন, ইরান উদ্দিন, শাহিন মিয়া, মাস্টার শফিকুল ইসলাম, সিলেট মহানগর যুবদলের যুগ্ম—সম্পাদক এমদাদুল হক স্বপন, যুবদল নেতা রিপন মিয়া, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম সুমন।
আয়োজক কমিটির সূত্র জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় মোল্লারপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ মানুষ চিকারকান্দি গ্রামে আসেন। সোমবার সকাল থেকে খেলা শুরু হবে বলে আগের দিনই চলে আসেন তারা। তাদের ৩৫ দলের সাথে এখানকার (স্বাগতিক) ৩৫ দল খেলবেন। আমন্ত্রিত মেহমানদের রাতে থাকতে দিয়েছে গ্রামবাসী। করেছে ‘জামাই আদর’। তাদেরকে আপ্যায়ন করতে গ্রামে ৮টি গরু জবাই করা হয়েছে। সমস্ত গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে ৩/৪ জন করে মেহমান খাওয়ানো হয়েছে। চিকারকান্দি ও আশপাশের গ্রামের আত্মীয়স্বজনকেও দাওয়াত করা হয়েছে। প্রতি ঘরে ঘরে ভালো ভালো রান্নাবান্না করা হয়েছে। এই খেলাকে উপলক্ষ করে ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। খেলা দেখতে বিশ্বনাথ, পাগলা বাজার, জাউয়া বাজারমহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসেছেন বাজারে। প্রতিটি দোকানে বিক্রি বেড়েছে। এলাকার পরিচিতিও বেড়ছে।
খেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে আয়োজক কমিটির সভাপতি লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ খান, কোষাধ্যক্ষ হেরুল মিয়া, সদস্য আক্কাস খান, আনছার মিয়া, আফছর মিয়া, আবদুল হাসিম, জাহাঙ্গীর মিয়া, ওলাস মিয়া, কানু মিয়া, আল মোমিন খান, আক্তার হোসেন, ইকবাল হোসেন, বদরুল আলম, আকলি মিয়া, রুহুল আলম, মঈনুল খান, মোক্তার আলী, আবু জাফর, শামীম আহমদ, রুবেল আহমদ, মনির উদ্দিন, সোহেল মিয়া, সৌরভ খান, আবু সালেক, সাইদুল আহমদ, রায়হান উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, হোসেন আহমদ ও কমর আলী প্রমুখ অবদান রেখেছেন।
আবুল কাশেম নাইম ও জাফর আহমদ বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ খেলার প্রতি আমাদের এলাকার মানুষের ঝোঁক বেশি, তারা খেলাটি ভালোবাসেন। খেলা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে দর্শকরাও এসেছেন। আমরা চাই গ্রামীণ এই ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক কাল থেকে কালান্তর। আগামীতেও আমরা এই সুস্থ্য বিনোদনের আয়োজন করবো।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ—৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কয়ছর এম আহমদ বলেন, হাডুডু খেলা শুধু একটি খেলাই নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। শান্তিগঞ্জে এটা হচ্ছে দেখে আমার ভালো লাগছে। আমি চাই, সুনামগঞ্জের সব জায়গায় খেলা হোক। খেলাধুলার মাধ্যমে যুব সমাজ আনন্দিত হয়, বিভিন্ন অসামাজিক কাজ থেকে বিরত থাকে। তাই আমার প্রত্যাশা সুনামগঞ্জের মতো সারা বাংলাদেশে এই খেলা আবারো ছড়িয়ে পড়বে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে খেলাধুলা আরও বেশী পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। খেলাধুলায় মাঠপর্যায়ে যুব সমাজকে উজ্জীবীত করতে বিএনপি কাজ করবে।
এদিকে, বিকালে ফিরার পথে জেলা বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবাদুর রহমান এবাদের বাড়িতে সৌজন্যে সাক্ষাতে যান কয়ছর এম আহমদ। এসময় জেলা, উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন