প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৫ ২১:১৬
ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে শান্তিগঞ্জের সাংহাই হাওরের হামইয়া বিলে নৌকার দীর্ঘসারি। সারি সারি নৌকায় এসে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ। দূরদূরান্ত থেকে ছাতা মাথায় দিয়ে দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করেছেন হাওরের মাঝে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় বাইচের তলা। ততক্ষণে বাইচে অংশ নিতে ঘাটে চলে এসেছেন নৌকাসহ মাঝিমাল্লারা। বেলা ১২ টার পরপরই থেমে যায় বৃষ্টি, শুরু হয় প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে পেয়ে আনন্দ—উল্লাসে মেতে ওঠে মানুষ।
.png)
শনিবার সকাল থেকে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে। লন্ডন প্রবাসী এক সৌখিন মানুষ আবুল হোসেন ( আবুল লন্ডনী) ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করেন এই প্রতিযোগিতার। তাকে সহযোগিতা করেন পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা। আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা। আরও উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য ফারুক আহমদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন।
.png)
বাইচে আগত মৌলভীবাজারের মাসুক বলেন, আমি খেলাধুলা প্রিয় মানুষ। বিশেষ করে নৌকা বাইচ যেখানে অনুষ্ঠিত হবে সেখানে আমি যাবই। আমি জেনেশুনে কোন নৌকা বাইচ মিস করিনি। আবুল লন্ডনীর বাইচও মিস করিনি। এতো মানুষ আর দেখে আনন্দ লাগছে।
বয়োজ্যেষ্ঠ আব্দুর রহীম বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের পূর্ব পূরুষের ঐতিহ্য। আমরা ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি। যত দিন যাচ্ছে এই প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে। আমাদের এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
স্বপ্নের তৈরির এক বাইচাল বলেন, আমাদের গ্রামের বাইচের নৌকা আমাদের সম্মান। বিজয়ী করতে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করি। যদি বিজয়ি করতে পারি আমাদেরও আলাদা সম্মান মিলে আমরা আনন্দ পাই। তাই বাইচে অংশ নেই।
আয়োজক আবুল হোসেন, আমরার মুরুব্বিয়ানরা এই নৌকা বাইচ করে গেছেন। তাই এটা আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু এই প্রতিযোগিতাটা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি বাইচকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এই আয়োজন করেছি। এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখা খুবই জরুরী। এরজন্য সবার সহযোগিতা নিয়ে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে নৌকা বাইচের আয়োজন বা পৃষঠপোষকতা করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ আর সুনামগঞ্জ হাওরের দেশ। এই অঞ্চলে নৌকা বাইচ শত শত বছরের ঐতিহ্য। কিন্তু এটি হারিয়ে যাচ্ছে। আমি আজকে এই বাইচে এসে এতো মানুষ আর উৎসাহ দেখে অভিভূত। আমরা এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। এবং খুব শীগ্রই জেলাব্যাপি একটি নৌকা বাইচ আয়োজন করবেন আমাদের ডিসি স্যার। এরপর স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় আরেকটি নৌকা বাইচ আমরা আয়োজন করবো।
নৌকা বাইচে অংশ নেয় দশটি বিভিন্ন ধরনের নৌকা এবং বিভিন্ন রাউন্ড শেষ করে জয়ী হয় স্বপ্নের তরী (২), রানার্সআপ হয় স্বপ্নের তরী (১)।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন