প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৫ ২১:২১
সেলিম মিয়ার দোকানের আয়ে চলে সংসার
জন্মের পরেই অকেজো হয়ে পড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়ার দুই পা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার না মেনেই বসত বাড়িতে দোকানে বসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করার আয়ে চলছে তার সংসার।
পরিবারের দারিদ্রতাকে উপেক্ষা করে, মানুষের কাছে হাত না পেতে জীবন সংগ্রাম করছেন মা রাজিয়া বেগমকে নিয়ে। প্রতিবন্ধীতার কারণে সেলিম পড়াশোনা করতে পারেনি।
প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়া (২৮) তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তার ৪ ভাই ঢাকা গামেন্টসে কাজ করে নিজেদের তাদের সংসার চালায়।
শারীরিক প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়া বলেন, কাছে হাত পেতে সহযোগিতা চাইতে আমার লজ্জা লাগে। তাই যতটুকু ছিলো সবটুকু সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে কিছু করার আগ্রহ থেকে এই ব্যবসায় নেমেছি। প্রথমে অল্প টাকা দিয়ে শুরু করলেও ক্রমে ক্রমে আমার মুদি মালের দোকান বড় হচ্ছে, এখন মোটামুটি দিনে ৫০০ টাকার মতো আমি আয় করতে পারি।
বর্তমানে আয় কিছুটা ভালোই যাচ্ছে। হাত পা নড়াচাড়া করতে না পারায় রাত্রিযাপন দোকানেই করতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন তার মা তাকে গোসল করান।
তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হোসেন আহমদ তৌফিক বলেন, সেলিম সমাজের প্রতিবন্দীদের জন্য একটি উদাহরণ। নিজেই উদ্যোক্তা হয়েছে, বসত বাড়িতে দোকান পরিচালনা করছেন, তার এই বিষয়টি আমাদের ভালো লেগেছে। গত ৫—৬ বছর ধরে দেখছি সে দোকান চালাচ্ছে।
প্রতিবেশী আহাদুল মিয়া বলেন, মাকে নিয়ে সেলিমের সংসার, সততার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে, আমাদের কোন কিছু প্রয়োজন হলে বাজারে না গিয়ে তার দোকান থেকে পন্য কিনে আনি। এতে আমাদের সময় বাঁচে অনেক। দোকানে সব সময় ভালো জিনিস পাওয়া যায়।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বললেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদের সম্পদ। মেধা, সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তারাও সাফল হতে পােও, সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সেলিম মিয়া।
তাহিরপুর সমাজসেবা অফিসার মো. সাব্বির সারোয়ার বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ভিক্ষাবৃত্তিকে সবসময়ই নিরুৎসাহিত করে। এমনকি সরকারও ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসনে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে আমরা দেখি কারো শারীরিক অক্ষমতা থাকলেই সেটাকে পুঁজি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আরও বড় করতে চাইলে আমাদের কাছে ঋণের আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও আমরা তার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন