প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:২৩
বৃষ্টি অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হলেও ছাতা কারিগরদের জন্য আশীর্বাদ। সারাবছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষাকাল যেন তাদের বাড়তি উপার্জনের পথ দেখায়।
বছরের অধিকাংশ দিন ছাতা ঘরের এককোনে পড়ে থাকে, কিন্তু বৃষ্টি হলেই ছাতার খোঁজ পড়ে, ছাতার কদর বেড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন ছাতার খোঁজ মিলে তখন দেখা যায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী। সিক ভাঙা, নয়তো কাপড় ছিঁড়ে গেছে, নয়তো হাতল ভাঙা— তখনেই ছাতা নিয়ে ছুটে যেতে হয় ছাতা কারিগরদের কাছে।
জামালগঞ্জ ঝরণা মেডিকেল হল ফার্মেসির সামনে গিয়ে দেখা মিলে ছাতা কারিগরদের। বারো মাস তারা তালা—চাবি মেরামত করেন। কিন্তু বর্ষা আসলেই সবাই ব্যস্ত ছাতা মেরামত করতে। ছাতা মেরামতের কারিগর মো. সফিক নুর জানান, গত কয়েকদিন যাবৎ ছাতা মেরামত করছেন। অন্য সময় তালা—চাবি, যে কোন ধরণের লক, ম্যাচ লাইটে গ্যাস ভরার কাজ করলেও গত কয়েকদিন যাবৎ বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ছাতা মেরামত করছেন। গেল দুইদিনে একহাজার টাকার উপর আয় হয়েছে তার।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাচনা বাজারে মাঝ গলিতে বসে মনযোগ দিয়ে ছাতা মেরামত করছেন আলা উদ্দিন। আলা উদ্দিনের দোকানে পুরাতন ছাতার স্তুপ পড়েছে। যার অধিকাংশ ফ্লোল্ডিং ছাতা। তিনি জানান, মেরামতের জন্য নুন্যতম ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন।
দুটি ফোল্ডিং ছাতা মেরামতের জন্য নিয়ে এসেছেন আহমদ হোসেন নামের শ্রমজীবী। ছাতা কারিগরকে তাড়া দিচ্ছেন দ্রুত কাজ করার জন্য। কারিগরও তাড়াতাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আহমদ হোসেন জানান, দুটি ছাতা বাসায় রাখা হয়েছিল, কয়েকদিন যাবৎ একনাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় ছাতা মেরামত করতে এসেছেন।
গত কয়েকদিন যাবৎ জামালগঞ্জে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে জনজীবনে ছন্দপতন ঘটেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হবে।
জামালগঞ্জ বণিক সমিতির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান জানান, কয়েকদিন যাবৎ ছাতা কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। ছাতার কারিগররা অন্য সময় বসে থাকলেও বর্তমান সময়ে ছাতা মেরামত করে অধিক আয় করছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন