হাওর ভাতা পাননি শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৫ ০১:১২

তাহিরপুরে শিক্ষকদের ক্ষোভ

তাহিরপুরে হাওর ভাতা না পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের গাফিলতির কারণে এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন।

 


সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিআরএল এ থাকা একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফেসবুকে লিখেন, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থানীয় কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দকে জুলাই/২৫ মাসের বেতনের সাথে হাওর ভাতা দেওয়ায় সবার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। এ পোস্ট দেয়ার পর উপজেলার শিক্ষকদের মধ্যে জানাজানি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষকরা। তারা বলেন, ভাতার জন্য প্রথম সারিতে থেকে আন্দোলন করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আর প্রথমে ভাতা পেলেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মরতরা।

 


উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ হাওর ভাতা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। 
জানা যায়, ২০২২ সালের একটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাহিরপুর সহ ৭টি উপজেলাকে হাওর ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে শর্তে দেয়া হয় স্থানীয় বাসিন্দা কর্মরত থাকলে হাওর ভাতা পাবেন না। ফলে তাহিরপুরের স্থানীয় শিক্ষক সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মরতরা হাওর ভাতা থেকে বঞ্চিত হন। তাঁরা এই বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালান। 

 


অবশেষে ২০২৫ সালের ২৬ মে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বৈষম্যমূলক শর্ত বাতিল করে তাহিরপুরসহ ৭টি উপজেলায় পুনরায় ভাতা চালু করার নির্দেশ দেয়। বলা হয়— পহেলা জুলাই, ২০২৫ থেকে স্থানীয় সরকারি কর্মরতরা হাওর ভাতা পাবেন।


তবে সম্প্রতি, এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পহেলা জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও কলেজের স্থানীয় সরকারী কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা হাওর ভাতা পেলেও, ভাতা পাননি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। এতে তারা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 


শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাওর ভাতার জন্য আমরা দীর্ঘ দিন সামনে থেকে আন্দোলন করেছি। অবশেষে জুলাই মাস থেকে হাওর ভাতা পাবো বলে প্রজ্ঞাপন হয়। কিন্তু আমরা জুলাই মাসের হাওর ভাতা পাইনি, সামনের মাস থেকে পাবো কিনা তাও নিশ্চিত না। অথচ একই উপজেলার সরকারী অন্যান্য দপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা জুলাই মাসের হাওর ভাতা পেয়ে গেছেন। আমাদের বেলায় এতো বৈষম্য কেন?
তারা আরো বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভাতার জন্য চাহিদাপত্র পাঠানোর কথা কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার তা পাঠাননি। 

 


হাদিদ মাসুদ নামে এক সহকারী শিক্ষক ফেসবুকে লিখেন, পরিপত্রের আলোকে হাওর ভাতা প্রদানের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করতে পারতেন। আর একই পরিপত্রের আলোকে তাহিরপুর উপজেলার অন্যান্য অফিসের স্থানীয় চাকরিজীবীরা জুলাই মাস থেকে হাওর ভাতা পেয়েছেন।  


সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শিক্ষা অফিসার কে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন হাওর ভাতার চাহিদা জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানোর জন্য, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চাহিদা পাঠালেও তাহিরপুর উপজেলা চাহিদা পাঠায়নি। 

 


মধ্য তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকারী শিক্ষক রণদা গাঙ্গুলী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা যদি হাওর ভাতা পায়, তাহলে আমাদের বেলায় পাবো না কেন?


এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়া বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমাকে হাওর ভাতার চাহিদা পাঠাতে বলা হয় নি। জেলা থেকে না বললে, আমি কিভাবে পাঠাবো। এছাড়া নতুন করে অন্য কোন উপজেলার শিক্ষকরাও তো ভাতা পান নি। অনেক শিক্ষক না বুঝে মন্তব্য করছেন।

 


তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, ২০২৫ সালের ২৬ মে, অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বৈষম্যমূলক শর্ত বাতিল করে তাহিরপুরসহ ৭টি উপজেলায় পুনরায় ভাতা চালু করার নির্দেশ দেয়ার পর তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে অর্থ বরাদ্ধ নিয়ে আসেন এবং জুলাই মাসের হাওরভাতা স্থানীয় কর্মরত সবাইকে দেয়া হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার