আটমাসের নৌ-পথ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:০৮

বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ত্রুটি, যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

তাহিরপুর উপজেলার হাওপাড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়। এটি উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কেন্দুয়া নদী ঘেষা গোলাঘাট জলমহালের পূর্বপাড়ে অবস্থিত। হাওরের দুর্গম এলাকাতে বিদ্যালয়টির অবস্থান হওয়ার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বছরের আট মাস মাস বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় নৌকাতে আর বাকী চার মাস যাতায়াত করতে হয় পায়ে হেঁটে। বিদ্যালয় স্কেচম্যাপ এলাকার গ্রামগুলো হলো— বড়দল নতুন হাটি, বড়দল পুরানহাটি, বাগবাড়ি, সোনাপুর, কুকুরকান্দি, বদরপুর, ইউনূছপুর ও গোলাঘাট গ্রাম। 

 


১৯৯৭ সালে বড়দল গ্রামের বাসিন্দা, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের প্রাক্তন সিভিল সার্জন মরহুম ডা. হারিছ উদ্দিন বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়ে এগারজন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ আটজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, তিনজন শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। একজন অফিস সহকারী ও পাঁচজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়ে সর্বমোট চৌদ্দজন স্টাফ কর্মরত রয়েছেন। এমপিওভুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে তিনিই পরিশোধ করতেন।

 


বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফুল আলম মো. নুরুল হুদা বলেন, প্রতিদিন সকালবেলা ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাঝি শিক্ষার্থীদের গ্রাম থেকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া বাবদ জনপ্রতি সাত টাকা করে পরিশোধ করে থাকে। উত্তোলিত টকা থেকে ডিজেল খরচ বাদ দিয়ে বাকী টাকা নৌকার দুইজন মাঝি পারিশ্রমিক বাবদ নেয়। নৌকায় যান্ত্রিক কোন ত্রুটি দেখা দিলে তা বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে পরিশোধ করা হয়।

 


বড়দল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মছিহুর রহমান মিলন বলেন, বর্ষাকালে তাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা হাওরে প্রবল ঢেউ থাকার কারণে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বড়দল গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে তৎকালীন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে অবহিত করলে তিনি নৌকা বাবদ পরিষদ থেকে একটি বরাদ্দ দেন, বাকি টাকা তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি ডা. আলমগীর হোসেন দেন। এই টাকা দিয়েই বিদ্যালয়ের জন্য একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা তৈরি করা হয়।

 


বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে একমাত্র নৌকাটির তলদেশে অনেকগুলো ছিদ্র দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পারাপারের বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া নৌকার র্যালিং ভেঙে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের বসতে সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোন বিকল্প পথ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে এর কোন সমাধান পাচ্ছি না। যে কোনো সময় নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে, জোড়াতালি দিয়ে কোন মতে নৌকাটি চলছে। 
তিনি আরো জানান, তার বিদ্যালয়ে দুইটি নৌকা রয়েছে। একটি কাঠের আরেকটি স্টিলের বড় নৌকা। দু’টি নৌকা মেরামতের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বারাবরে আবেদন করা হলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা দেয়া হয়। 
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের নৌকাটি মেরামতের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার