প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ২০:৪৬
জেলার হাওর ও নদীগুলোতে ভরা বর্ষার মাঝেও দেশীয় মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের জেলেদের আয়ের অন্যতম উৎস মাছ হলেও, এবার হাওর ও নদীতে মাছের সংখ্যা কমে গেছে। প্রতিবছর হাওর ও পুকুর থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার মাছ উৎপাদনের কথা বলা হলেও, বাস্তবে দেশীয় মাছের জোগান কমে গেছে।
মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, জেলায় ১৩৭টি হাওর, ২৬টি নদী ও ২০ হাজার ৭৬৯টি পুকুর রয়েছে। এরমধ্যে ২০ হাজার ২৪৯টি পুকুরে নিয়মিত মাছ চাষ হচ্ছে। জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ৭৪৩ জন।
স্থানীয়রা জানান, শনি, মাটিয়ান, খরচাা হাওর সহ বিভিন্ন হাওরে কারেন্ট ও রিং জালের মতো নিষিদ্ধ জাল অবাধে ব্যবহারের কারণে মা মাছ ও পোনা ধ্বংস হচ্ছে। অপরিকল্পিত বাঁধ, কৃষিজমির সার ও পলি জমা ও গভীর পানি না থাকায় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এতে টেংরা, বাইম, শিংয়ের মতো দেশীয় মাছ এখন বাজারে বিরল। অপরদিকে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশীয় মাছ না থাকায় পুকুরের পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছ বাজার দখল করছে।
বাদাঘাটের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছ বাজারে দেশীয় মাছ নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা জানান, যা কিছু হাওরে ধরা পড়ে, ঢাকার ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে দেশীয় মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, কিছু ক্ষেত্রে ৯০০ থেকে ১,২০০ টাকা। দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে।
হাওরপাড়ের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, যে হারে দেশীয় মাছের পোনা ধরা হচ্ছে, মা মাছ শিকার করা হচ্ছে— তাতে খুব কম সময়ের মধ্যে মাছের আকাল দেখা দিবে।
স্কুল শিক্ষক নূরে আলম বলেন, দেশীয় মাছ রক্ষা করতে হলে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সাধারণ মানুষ মা মাছ ও পোনা মাছ যাতে না ধরে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। হাওর এলাকার বড় বড় বিল ইজারা না দিয়ে উন্মুক্ত রাখতে হবে। যাতে দেশীয় জাতের মাছ হাওরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশি পোনার প্রজনন তৈরি করে।
সারোয়ার ইবনে গিয়াস বলেন, জেলার বিভিন্ন হাওরের বুক চিরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। যাতে হাওরে সহজে পানি প্রবেশ করতে পারে সে বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সবাইকে মৎস্য আইন মানতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলার তেলীগাওঁ কৃষ্ণতলা গ্রামের জেলে হরি কৃষ্ণ বলেন, হাওরের বিভিন্ন জায়গায় কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করিম মিয়া বলেন, আগে দেশীয় মাছ বেশি মিলতো, এখন বাজারে তা চোখে পড়ে না। বাজারে এখন পুকুরের পাঙ্গাশ আর তেলাপিয়া বেশি মিলে। কারেন্ট জাল ও রিং চাই দিয়ে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
বাদাঘাট বাজারের মাছ বিক্রেতা রতিন্দ্র দাস বলেন, এখন দেশীয় মাছ বাজারে বেশি আসে না। আসা মাত্রই ক্রেতারা কিনে নেন।
জেলা মৎস্য অফিসার মো. শামশুল করিম বলেন, এবার দেরিতে পানি আসায় হাওরে মাছ ছড়িয়ে পড়েছে। যখন পানি কমে আসবে তখন মাছ বেশি ধরা পড়বে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ ও পলি জমার কারণে দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিতে পারে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন