প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ২২:১৯
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকার ব্যস্ততম সড়কপথ জুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহনের চালক ও পথচারীদের। কোথাও কোথাও রাস্তা এতটাই ভাঙাচোরা যে, পায়ে হেঁটে চলা মুশকিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোতে সংস্কার কাজ হয় নি। বেহাল সড়কে বর্তমানে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকায় আব্দুজ জহুর সেতু সড়কের দুই পাশের দুইটি চলাচল পথ এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই গর্তে পড়ে যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে ছোট—বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন মল্লিকপুর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলোতে বর্তমানে ভারী যানবাহনগুলো পার্কিং করে রাখা হয়। ঢাকাগামী বাসগুলো সেতু সড়কের দুই পাশের সড়কে রাখায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এছাড়াও ঢাকা থেকে প্রতিদিনই আসা পর্যটকদের গাড়িও সড়কে পার্কিং করে রাখা হয়। পাশাপাশি সিএনজি, অটোরিকশা, লেগুনাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে থাকে। এলাকার স্কুল—কলেজ এবং মাদ্রাসা পড়–য়া ছেলে—মেয়েসহ পথচারীদের জন্য চলাচলে হয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী। এছাড়াও সড়কের কার্পেটিং নেই, পাথর, খোয়া ও ইটগুলো উঠে গিয়ে অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে পানি জমে দীর্ঘদিন শুকায় না। জলাবদ্ধতা এবং গর্তে আবর্জনা পচা দুর্গন্ধ বের হয়ে চারদিকের পরিবেশ নষ্ট করছে। পথচলাসহ স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থীরা নাকে চেপে ধরে আসা—যাওয়া করতে হচ্ছে।
সড়কের সদর উপজেলা পরিষদের মার্কেটের সামনের সেতু সড়কের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ ভেঙে গেছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো অবস্থায় আছে। ময়লা আবর্জনা জমে আছে। কালী মন্দিরের সামনে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বাগানবাড়ি সড়কের সামনে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। মল্লিকপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনেও অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কপথে সিংহভাগ অংশে ইট, খোয়া উঠে গিয়ে ছোট—বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মল্লিকপুর এলাকায় গাড়ি সার্ভিসিংয়ের কাজ করেন আমির আলী। তিনি বলেন, এই রাস্তা দিয়ে অনেকেই চলাফেরা করতে পারে না। গাড়ি চলাচলে অনেক সময় দুর্ঘটনা হয়। সকাল—বিকাল প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দৈনিক তিনটা— চারটা করে অটোরিকশা উল্টে যায়। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত রয়েছে। গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা খুবই সমস্যা। এই সড়কপথ দ্রুত সংস্কার দরকার।
মল্লিকপুরের বাসিন্দা জাকেরিন মিয়া বলেন, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। একেকটা গর্ত দেড় হাত, দুই হাত হবে। গত দুই দিন আগে একটা অটোরিকশা আমার দোকানের সামনে এসে উল্টে যায়, গাড়িতে অনেক বই ছিল। আমরা গাড়িটি তুলে দেই, এইরকম প্রায়ই দুর্ঘটনা হচ্ছে।
চালক মহিম মিয়া রঙের বাজার থেকে এই সড়কপথে এসেছিলেন, এসেই গর্তে পড়ে যায়। গাড়িটি গর্ত থেকে উঠানোর জন্য চেষ্টা করছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সড়কপথে গর্ত ও গর্তে পানি জমে রয়েছে। পানি জমে থাকায় কিছুই আন্দাজ করতে পারছি না, গাড়িটা উল্টে যায়। এই রাস্তা ঠিক না করলে আমার মতো শতশত চালক দুর্ঘটনার শিকার হবে। গাড়ির যন্ত্র নষ্ট হবে। ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, দিনদিন আরও ভোগান্তি বাড়বে।
সদর উপজেলা পরিষদের সামনে গাড়ি পার্কিং করে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, আমি এটি দেখেছি। গাড়ি পার্কিং না করার জন্য সড়কের পাশে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, যারা পার্কিং করে তাদেরকেও নিষেধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের সড়কের ফোর লেনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। ঠিকাদার সরেজমিনে গিয়েছেন, সার্ভে করা হচ্ছে। আশাকরি, মল্লিকপুর এলাকায় সড়কপথের ওই অংশের কাজ মাসখানেকের মধ্যে শুরু হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন