মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একজন শিক্ষকে পাঠদান

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ২২:৩৪

টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্ষাকালে পানিবন্দি ৫ গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। গ্রামগুলো হলো— ছিয়িারগাঁও, মন্দিয়াতা, মুজরাই, কামালপুর ও মইয়্যাজুরি।

 


বর্ষা মৌসুমে ফেরি নৌকায় ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে। হাওরে প্রবল ঢেউ থাকলে সেদিন বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কম থাকে। বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদের সংখ্যা ৫ জন থাকলেও কখনো পূরণ হয়নি শিক্ষকের পদ। ২০২৩ সালের শুরু থেকে কিছুদিন ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছিল। পরবর্তীতে অনলাইন আবেদনে দুইজন শিক্ষক অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান।
২০২৪ সালের ৬ মে তারিখে মুক্তার হোসেন নামে একজন সহকারি শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। তিনিও গত ১৩ আগস্ট মেডিকেল ছুটিতে চলে যাওয়ায় একমাত্র সহকারি শিক্ষক সানজু মিয়া বিদ্যালয়ের ৫টি ক্লাসে পাঠদান সামাল দিতে হচ্ছে। সহকারি শিক্ষক সানজু মিয়া একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

 

 


মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মো. রাব্বুল আখঞ্জি জানায়, এ বছর সে বৃত্তি পরীক্ষাতে অংশ নিবে। সে লক্ষে তার প্রচুর পড়াশোনা করা দরকার। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় তাকে লেখাপড়ার জন্য কঠিন সময় পাড় করতে হচ্ছে। তার দাবি কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন করেন।

 


ছাত্র অভিভাবক ময়না মিয়া বলেন, তাদের ছেলেমেয়ের ভবিষ্যত লেখাপড়া নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় লেখাপড়া হচ্ছে না। ময়না মিয়া প্রশ্ন রেখে বলেন, এই অবস্থার জন্য আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ী করবো, না বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দায়ী করবো ?

 


বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র অভিভাবক শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার মোশারফ হোসেন বলেন, আমার দুইজন ছেলে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। একজন পঞ্চম শ্রেণীতে আর একজন প্রথম শ্রেণিতে। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি এক হৈ—হুল্লোর অবস্থা। একজন শিক্ষক তিনি ছাত্রদের সামাল দিবেন, নাকি পাঠদান করাবেন। 
তিনি আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। অফিসের মাসিক মিটিংসহ নানা কাজে অনেক সময় উনাকে উপজেলাতে যেতে হয়। বিদ্যালয়ে দপ্তরি না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককেই বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, স্কুলের দরজা খোলা লাগানো, ঘন্টা বাজানো সবই করতে হয়। তিনি আরও জানান, আমি তাহিরপুরে যাচ্ছি— স্কুলের এমন দুরাবস্থার বিষয়টি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করবো।

 


মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে ৫টি ক্লাসে ১৫২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আমার একার দ্বারা ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া উপজেলাতে মাসিক মিটিং—এ গেলে বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে— না খোলা থাকবে তাও বুঝতে পারছি না। বিদ্যালয়ে দপ্তরী না থাকায় পতাকা ও ঘন্টা বাজানো তাকেই করতে হয় বলে জানান। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার দিক বিবেচনা করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি করেন।

 


তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সুলেমান মিয়া বলেন, মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষকের মধ্যে একজন শিক্ষক ১৩ আগস্ট মেডিকেল ছুটিতে চলে যান। প্রেষণে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে পত্র পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। দুইজন শিক্ষকের বিদ্যালয়ে কিভাবে একজনকে মেডিকেল ছুটিতে দিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন— একজন সরকারি চাকুরীজীবী ছুটির জন্য আবেদনের সাথে মেডিকেল সার্টিফিকেট সামনে দিলে ছুটি দিতে বাধ্য— এটাই মেডিকেল আইনে রয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার