প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ২২:৪৮
এ বছর আষাঢ়—শ্রাবণ মাসে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় রোপা আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার উঁচু এলাকাগুলোতে চলছে রোপা আমনের বীজ বপন, নিড়ানি এবং রোপণ। এদিকে বৃষ্টি হওয়ায় বিনা সেচে আমন রোপণ করতে পেরে খুশি চাষীরা। রোপা আমন রোপণেরও ধুম লেগেছে জেলার উঁচু এলাকাগুলোতে। প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে কাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর অঞ্চলের উঁচু এলাকাগুলোতে আমন ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করা এবং চারা রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। শ্রমিক সংকট নেই। বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ কমে গেছে। খরচ কমে যাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকরা। কেউ কেউ শুকনো জমি চাষ করে রেখেছেন, আগে থেকেই এবং বৃষ্টির পর পরই চারা রোপণ শুরু করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড ২২০, উফশী ৭৪২০০ এবং স্থানীয় ৯১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন ধানের চারা রোপণে বিভিন্ন জাতের ধান ব্যবহার করেন কৃষকরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু জাত হলো— ব্রি ধান ৭৩, ব্রি ধান৯০, ব্রি ধান৯১, ব্রি ধান৯২, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৫১, ইত্যাদি। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে কিছু জনপ্রিয় জাতও রয়েছে, যেমন — পরাঙ্গী, কালামানিক, সূর্যমুখী, ষাইট্টা, মাটিচাক, পড়খীরাজ, লক্ষ্মীলতা, নরই, বটেশ্বর, কটকি, কইয়াজুরি, মুক্তা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ইতোমধ্যেই ৩০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি এলাকার রইছ উদ্দিন বলেন, এই বছর আল্লাহর রহমতে ফসল ভালো হবে আশা করি। সময়মতো বৃষ্টি হচ্ছে, আমরা বৃষ্টির পানি দিয়েই রোপণের কাজ শেষ করেছি।
একই গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সালেক ভাইয়ের জমিতে আমন রোপণ করেছি। বৃষ্টি হওয়ায় খুব ভালো হয়েছে। ধানের ফলনও ভালো হবে আশা করি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার আজমপুর গ্রামের ছমেদ আলী একজন সফল কৃষক। তিনি বলেন, আমি এই বছর তিন কেয়ার জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। মুক্তা এবং ৪৯— ধান রোপণ করেছি। সময়মতো মেঘ— বৃষ্টি হওয়ায় আমার জমিতে খরচ কম হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছি। এইভাবে সময়ে সময়ে বৃষ্টি হলে, ফলন ভালো হবে আশা করছি।
একই গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, প্রথম অবস্থায় বৃষ্টি কম হয়েছে। এখন নিয়মিতই বৃষ্টি হচ্ছে। আমি চার কেয়ার জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। এরমধ্যে মুক্তা দুই কেয়ার এবং ৪৯ ব্রি ধান দুই কেয়ার জমিতে রোপণ করেছি। নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় আমার জমিতে খরচ কম হয়েছে।
আজমপুর গ্রামের ছমির উদ্দিন বলেন, সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা জমিতে কাজ করি। চারা তুলে জমিতে রোপণ করি, নিড়ানির কাজ করি। দুপুরে জমির মালিকের বাড়িতে আমরা খাওয়া — দাওয়া করি। দৈনিক পাঁচ শত টাকা রুজি হয় আমাদের। মেঘ— বৃষ্টি হলে আমাদের কাজে আরাম পাই। জমির মালিকও খুশি হয়।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩০০ হেক্টর। এরমধ্যে ৭০% রোপণ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিনা—১৭, ব্রি ৮৭, ব্রি—১৭ জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে। আশাকরি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ রোপণ সম্পন্ন হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমার উপজেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০৬৬ হেক্টর এবং ইতোমধ্যে ৮০% রোপণ কাজ হয়েছে। বাকি ২০% রোপণে একটু বিলম্ব হতে পারে। এই বছর রোপা আমনের রোপণের শুরুতে বৃষ্টি কম হচ্ছিল, ফলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এই কয়দিন ধরে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় সুবিধা হয়েছে। কৃষকদের জন্য খুবই উপকার হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এবার জেলায় ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩০ শতাংশ জমিতে রোপা আমন রোপণ করা হয়েছে। আষাঢ়ের বৃষ্টিতে এবার কৃষকরা আমন রোপণ করতে পারায় সেচ খরচ লাগে নি। আশা করছি, এবার আমন চাষে লাভবান হবেন কৃষকরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন