প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:৩৯
একটু বৃষ্টি হলেই স্কুলে যেতে হয় দুই সেট কাপড় নিয়ে। এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে গিয়ে আরেক কাপড় পড়ে ক্লাস করতে হয়।
এমন দুর্ভোগের কথাই বলছিল তাহিরপুর সীমান্তের ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারাবী।
সে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন স্পট শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী লেক) পাড়ের একমাত্র রাস্তা ভাঙা, পথে জমে থাকা পানির কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এক কিলোমিটারের এই রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হলেও মেরামতের উদ্যোগ নেই।
.jpg)
সরেজমিনে দেখা যায়, লেকের পাশেই একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণাধীন। আগে অতিরিক্ত পানি সরানোর জন্য লেক থেকে একটি নালা ছিল। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই নালাটি বন্ধ করে ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে। বড়—ছোট গর্তে ভরা কাদা পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও যানবাহন চালকরা।
জানা যায়, তাহিরপুর সীমান্ত সড়কের আওতায় বারেকটিলা থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন থাকলেও ধীরগতির কারণে এখনও লেকপাড়ের অংশে কাজ শুরু হয় নি। ফলে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ও এলাকাবাসী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন।
অটোচালক কাওসার মিয়া বলেন, যাত্রী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য। মাঝে মধ্যে নিজেরা খরচ করে মেরামত করি, কিন্তু টেকে না। রাস্তার পাশেই পাহাড়ি ছড়ার বালি—পাথর ব্যবহার করতে প্রশাসন ও বিজিবি অনুমতি দিলে নিজেরাই এইটুকু রাস্তা মেরামত করে নিতে পারতাম।
পর্যটক দিনা বেগম বলেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে্য ভরা এই এলাকা। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখলে দুঃখ হয়। এখানে উন্নত রাস্তা হলে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়ত।
ট্যাকেরঘাট খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সদস্য বাছির আহমেদ জানান, রাস্তা সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, অন্তত চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে করে দিবেন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বললেন, রাস্তাটি ভেঙে কাদা হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও রাস্তা মেরামতের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বললেন, ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ার পর বড়ছড়া থেকে চারাগাঁও পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে। পাশাপাশি এই রাস্তার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে। যাতে মানুষ আপাতত চলাচল করতে পারেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন