প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:২৪
পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার করা মামলায় আদালতের আদেশে কয়েক বছর ধরে বালু—পাথর উত্তোলন বন্ধ আছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান চলতি নদী সায়রাত মহালে। সরকার পরিবর্তনের পর এখানে কিছুদিন গণহারে চালানো হয় লুটপাট। এরপর থেকে আবার বন্ধ আছে মহালটি।
তবে সম্প্রতি ঢাকা—সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজে রাস্তা ভরাট ও উঁচু করার জন্য ভুল তথ্য দিয়ে নৌ মন্ত্রণালয় থেকে ধোপাজান চলতি নদীতে ভিট বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়েছে ঢাকার লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আগামী এক বছরে তিন লক্ষ ঘনমিটার বা প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ভিট বালু তারা উত্তোলন করবে। এমন খবর জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলে সকল মহলে। অনুমতি দেয়ার সময় জেলা প্রশাসনের মতামত কিংবা অবগত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।
এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, ধোপাজানে ভিট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। অনুমতি দেয়ার সময় জেলা প্রশাসনের কোন মতামত নেয়া হয় নি। অনুমতি দেয়ার পর আমরা জেনেছি। আমরা জানার পর সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। যেখানে লেখা হয়েছে, ধোপাজান চলতি নদী কোন নৌপথ নয়। এখানে কোন বড় ইন্ডাস্ট্রি নেই, যে বড় বড় নৌকা চলাচল করবে। এই নৌ—পথ বালু পাথর লুটপাটের জন্য ব্যবহার করা হয়, একারণে এই নদীতে বড় বড় বাল্কহেড চলাচলে এখনো নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। এই নদীপথটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নৌ—ব্যারিকেড দিয়ে ইতিপূর্বে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই নদীর তলদেশে কোন ভিট বালু নেই। এখানে উন্নত মানের সিলিকন বালু আছে। এর মালিক খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এছাড়া এখানে বালু উত্তোলন করলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। এখানে যে যে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে তা উল্লেখ করে উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল জেলা প্রশাসকের সাথে একমত পোষণ করে বললেন, নৌ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে আমরা শঙ্কিত। আমাদের পূর্ব পুরুষদের বাড়ি এখানে। আমরা এখানকার স্থানীয় মানুষ। আমরা কোনদিন শুনি নি ধোপাজান চলতি নদীতে ভিট বালু আছে। ভিট বালু আছে ঢাকার আশপাশের মেঘনা, পদ্মা, কিশোরগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায়। সেই জায়গা বাদ দিয়ে ঢাকা—সিলেট মহাসড়কের জন্য এতো দূর থেকে বালু উত্তোলনের পেছনে লুটপাটের স্পষ্ট চিত্র সকলেই বুঝতে পারছে। আমরা এজন্য শঙ্কিত। ঢাকার জন্য মাটি নিতে হলে ওখানকার আশপাশের নদী থেকে নিতে পারে তারা। তিনি বলেন, এধরণের অজুহাত দাঁড় করিয়ে সাদাপাথর লুট হয়েছিল। সাদাপাথর লুটের মতোই ফন্দিফিকির করে ধোপাজান চলতি নদী লুটতে চায় কোনপক্ষ, এর পেছনে অনেক বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে মনে করছেন তিনি। এই কাজ হলে ধোপাজান—চলতি নদীর পাড়ের জনবসতিও হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে মন্তব্য তাঁর।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জনসহ সুনামগঞ্জে কর্মরত বিপূল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন